
2025 সালের Q1 সামান্য ইতিবাচকভাবে শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবারের শুরুতে ঝুঁকির পূর্বাভাস এখনও অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের মিশ্র অর্থনৈতিক তথ্য, ফেডারেল রিজার্ভের বক্তব্য এবং ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে চলমান বিতর্ক 2 এপ্রিলের “লিবারেশন ডে”-এর আগে বাজারের অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
দুর্বল একটি প্রান্তিকের পর শেয়ারবাজার, মার্কিন ডলার ও ক্রিপ্টোকারেন্সির দরপতন হয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়াকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং শুক্রবারের মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের আগে সতর্কতা—সব মিলিয়ে ট্রেডারদের উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে, JPY ও সোনার মতো প্রচলিত নিরাপদ আশ্রয়সম্পদ শক্তিশালী রয়েছে। তবে OPEC+-এর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং ট্রাম্পের “ড্রিল বেবি ড্রিল” নীতির কারণে ক্রুড অয়েলের ক্রেতারা চাপে রয়েছেন। ফ্রান্সের রাজনৈতিক উত্তেজনা, তাইওয়ানের কাছে চীনের সামরিক মহড়া এবং চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নিয়ে আলোচনা—এসব কারণে বাজারের আশাবাদ কমছে। এর মধ্যেও চীনের ইতিবাচক তথ্য এবং প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দুর্বলতা সত্ত্বেও EURUSD ও GBPUSD বাড়তে হিমশিম খাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে ফ্রান্সের রাজনৈতিক উত্তেজনা, মার্চে যুক্তরাজ্যের BRC Shop Price Index-এর হতাশাজনক ফল এবং ECB ও BoE-এর ডোভিশ অবস্থান। তবে মার্চের শেষভাগ দুর্বল হলেও, মাস ও ত্রৈমাসিক—দুই হিসাবেই গ্রিনব্যাকের বিপরীতে উভয় মুদ্রার দর বেড়েছে।
এদিকে, ত্রৈমাসিক ও মাসিক লোকসানের পর USDJPY আগের দিনের উত্থান থেকে পিছিয়ে এসেছে। Bank of Japan-এর Tankan প্রতিবেদন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবার সম্ভাব্য মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে মন্তব্য, ইতিবাচক মুদ্রাস্ফীতির তথ্য ও বেকারত্বের হার কমার পাশাপাশি BoJ-এর JGB কেনা কমানোর সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে ইয়েনের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে। নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে JPY-এর আকর্ষণও পেয়ারটির বিক্রেতাদের উৎসাহিত করছে।
মঙ্গলবার রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (RBA) সুদের হার 4.10%-এ অপরিবর্তিত রেখেছে, যা বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলে গেছে। RBA গভর্নর Michele Bullock মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমান নীতিকে সংকোচনমূলক বলে বর্ণনা করেছেন, যা নীতিনির্ধারকদের হকিশ অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে AUDUSD চার সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে প্রথম দৈনিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া, অস্ট্রেলিয়ার মার্চ মাসের Manufacturing PMI-তে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং খুচরা বিক্রি স্থিতিশীল থাকায় অস্ট্রেলিয়ান ডলার সমর্থন পেয়েছে। তবে, চীনের গরুর মাংস আমদানি-সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ এবং চলমান ভূরাজনৈতিক ও শুল্কসংক্রান্ত সমস্যা সম্প্রতি AUDUSD ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
চীন-সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি শুল্ক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কায় সামগ্রিকভাবে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে, যা নিউজিল্যান্ড ও কানাডার ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে NZDUSD-এর দরপতন অব্যাহত রয়েছে। মার্চের শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে টানা তৃতীয় দিন লোকসানে রয়েছে এটি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা শুল্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে USDCAD টানা চার দিন ধরে বাড়ছে, যদিও কানাডার অপরিশোধিত তেল রপ্তানির পারফরম্যান্স শক্তিশালী।
বাজারের অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতার কারণে সোনার দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো বাড়ছে এবং নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এতে ট্রেডাররা এই ঐতিহ্যবাহী নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি, চীন, ভারত ও জাপানে সোনার চাহিদা বাড়ায় দাম সমর্থন পেয়েছে। এর আগে $3,149-এ শীর্ষে পৌঁছানোর পর সোনার দাম এখন $3,135-এর কাছাকাছি রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান-সমর্থিত হুথিদের ওপর হামলা এবং ইরানের সতর্কবার্তার প্রভাবে ক্রুড অয়েলের দাম পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে। রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও দামে প্রভাব ফেলেছে। তবে OPEC+-এর উৎপাদন বাড়ার আশঙ্কা, আরও বেশি তেল উত্তোলনের জন্য Trump-এর আহ্বান এবং বৈশ্বিক শুল্কের প্রভাবে জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তেল ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি করছে।



Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD) আগের দিনের পুনরুদ্ধারের ধারা ধরে রেখেছে। তবে Trump-এর “Liberation Day”-এর আগে ক্রিপ্টো ক্রেতারা সতর্ক বলে মনে হচ্ছে। সামগ্রিক ঝুঁকির পাশাপাশি, স্টেকিংয়ে প্রবাহ বৃদ্ধি এবং Trump-এর সম্ভাব্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়ে আশাবাদ কমে যাওয়ার মতো শিল্প-নির্দিষ্ট বিষয়গুলোও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা এমন আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যার মাধ্যমে আমেরিকানরা অবসরকালীন তহবিল Bitcoin ও অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
2025 সালের প্রথম প্রান্তিকের অস্থির সমাপ্তির পর ট্রেডাররা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ইউরোজোনের মূল্যস্ফীতি, যুক্তরাষ্ট্রের ISM উৎপাদন PMI এবং JOLTS চাকরির শূন্যপদের তথ্যের দিকে নজর রাখবেন। এ ছাড়া, ট্রাম্পের শুল্ক এবং রাশিয়া, ইরান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সম্পর্কিত খবরও বাজারের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বাজারের সতর্ক মনোভাবের কারণে 1 এপ্রিল US Dollar ইতিবাচক অবস্থানে দিন শেষ করতে পারে। এতে প্রধান মুদ্রা, Crude Oil এবং অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলোর ওপর চাপ পড়তে পারে। তবে JPY ও Gold শক্তিশালী থাকতে পারে। অন্যদিকে, 2 এপ্রিল Trump-এর শুল্ক ঘোষণা এবং শুক্রবারের US কর্মসংস্থান প্রতিবেদন সামনে থাকায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ও শেয়ারবাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!