
জার্মানির নির্বাচনের ফলাফলের পর সপ্তাহের শুরুতে বাজারে ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়, ফলে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের দাম বাড়ে। তবে কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়টি ট্রাম্প নিশ্চিত করায় এবং ইউক্রেন নিয়ে মিশ্র খবর আসায় বাজারের মনোভাব দুর্বল হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন খনিজ চুক্তিতে অগ্রগতি এবং ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিয়ে পুতিনের বক্তব্য ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ কমায়। তবে রাশিয়া পিছিয়ে আসতে কতটা আগ্রহী, তা নিয়ে সংশয় এবং ইউরোপের সঙ্গে উত্তেজনা অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে রাখে। এতে মার্কিন ডলার ঘুরে দাঁড়ায় এবং প্রধান মুদ্রা, কমোডিটি ও অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রার ঊর্ধ্বগতিকে চ্যালেঞ্জ করে। এদিকে, ডালাস ফেড ও শিকাগো ফেডের দুর্বল তথ্য এবং মূল্যস্ফীতি ও নীতির প্রভাব নিয়ে ফেডের গুলসবি ‘অপেক্ষা করে দেখা’র পক্ষে মত দেওয়ায় পরে ডলারের দরবৃদ্ধি বাধার মুখে পড়ে।
সপ্তাহের শুরুতে US Dollar-এর ঘুরে দাঁড়ানো Euro (EUR) ও Japanese Yen (JPY)-এর ক্রেতাদের চাপে ফেলেছে। তবে বাজারের মিশ্র মনোভাবের মধ্যে EURUSD-এর আরও পতন থেমেছে, আর USDJPY আগের দিনের বহু সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গতি হারিয়েছে। এদিকে, Euro-এর ট্রেডাররা দুর্বল জার্মান IFO ও EU-এর মুদ্রাস্ফীতির তথ্য এবং ECB-এর নরম অবস্থান উপেক্ষা করছেন। এর পেছনে জার্মানির নির্বাচন, ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক আশাবাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল তথ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে, জাপানের সেবা খাতের PPI-এর শক্তিশালী তথ্য BoJ-এর সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে প্রত্যাশাকে আরও জোরদার করেছে এবং 12 সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে USDJPY পেয়ারের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা উল্টে দিয়েছে। তবে, জাপানি নীতিনির্ধারকেরা সম্প্রতি ইয়েনকে সমর্থন দিতে বাজারে হস্তক্ষেপের পক্ষে কথা বললেও, বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ না থাকায় JPY ট্রেডাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
GBPUSD প্রথমে 2.5 মাসের সর্বোচ্চে উঠলেও সোমবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সামান্য লোকসানে শেষ হয়েছে। মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (BoE) নীতিনির্ধারক Swati Dhingra-এর আরও সুদের হার কমানোর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে দরপতন হয়েছে। অর্থনীতির রূপান্তর নিয়ে উদ্বেগ এবং বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কাও পাউন্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ এবং BoE-এর Huw Pill, ফেডের Michael Barr ও রিচমন্ড ফেডের Thomas Barkin-এর বক্তব্যের আগে বাজারের সতর্ক মনোভাব GBPUSD-কে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। তিন দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইন্ট্রাডে দরবৃদ্ধিও দেখা গেছে।
অন্যান্য প্রধান মুদ্রার মতো, মঙ্গলবার দিনের শুরুতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার ডলার তিন দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইন্ট্রাডে দর বেড়েছে। সতর্ক আশাবাদ, চীনের প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তুতি, PBoC-এর MLF হার অপরিবর্তিত থাকা এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রাগুলোকে সহায়তা করেছে। এদিকে, অপরিশোধিত তেলের দামে ঘুরে দাঁড়ানো সত্ত্বেও USDCAD-এ বিক্রেতারা গতি পেতে হিমশিম খেয়েছেন। তেলের এই দরবৃদ্ধিতে শুক্রবারের দরপতন কিছুটা কমেছে, যা ছিল নভেম্বরের পর এক দিনে সবচেয়ে বড় দরপতন।



মার্কিন ডলারের দর দুর্বল হওয়া এবং বাজারের অনিশ্চিত মনোভাবের মধ্যে সোমবার সোনার দাম সর্বকালের নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে নতুন কোনো অনুঘটকের অপেক্ষায় থাকা ট্রেডারদের কারণে পরে দাম কমে আসে। মঙ্গলবারের শুরুতে অর্থনৈতিক সূচির ব্যস্ততা কম থাকা, চীন ও ভারত থেকে চাহিদা নিয়ে বড় কোনো নতুন তথ্য না আসা এবং গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন তথ্য ও ইভেন্টের আগে সতর্ক মনোভাব—সব মিলিয়ে ক্রেতাদের তৎপরতা সীমিত ছিল।
এদিকে, শুক্রবারের বড় পতনের পর অপরিশোধিত তেলের দর পুনরুদ্ধার অব্যাহত রেখেছে। দুর্বল মার্কিন ডলার, সতর্ক আশাবাদ এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এতে সমর্থন জুগিয়েছে। মঙ্গলবারের মার্কিন বেসরকারি তেল মজুতের ডেটার জন্যও ট্রেডাররা অপেক্ষায় ছিলেন, যা অপরিশোধিত তেলের দরকে বাড়তি লাভ ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের আশঙ্কা এবং ক্রিপ্টো শিল্পে হ্যাকিং নিয়ে উদ্বেগের চাপে Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর দর মঙ্গলবার পর্যন্ত আরও কমেছে। বাজারের সতর্ক মনোভাব ও ETF-সংক্রান্ত মিশ্র সংকেতের কারণে ইউক্রেনের উত্তেজনা কমলেও ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো তেমন সুবিধা পায়নি।
মঙ্গলবার বড় কোনো অর্থনৈতিক তথ্য বা ঘটনা না থাকায়, মিশ্র বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক খবরের মধ্যে বাজারের গতি সীমিত থাকতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার চাপে থাকতে পারে, আর অন্যান্য কারেন্সি ও কমোডিটি সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে। সোনার দরপতন আরও বাড়তে পারে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নরমপন্থী সংকেতের কারণে GBPUSD ও EURUSD-এর ঊর্ধ্বমুখী গতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। USDJPY দুর্বল থাকতে পারে, অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ড ডলারের দর সামান্য বাড়তে পারে এবং অপরিশোধিত তেলের দর পুনরুদ্ধার অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে আরও দরপতন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার খোলার পর প্রাথমিক দরবৃদ্ধির পর শেয়ারবাজার নিচের স্তরেই থাকতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!