
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে 90 দিনের বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতি এবং শুল্কে বড় কাটছাঁট সোমবার বাজারের মনোভাব উন্নত করেছে, ফলে মার্কিন ডলার ও ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের দর বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরও বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে—এমন আলোচনা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রেসক্রিপশনের ওষুধের দাম 59% কমানোর পদক্ষেপ আশাবাদ আরও বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কড়া অবস্থানের প্রত্যাশাও এই ইতিবাচক মনোভাবে অবদান রেখেছে।
তবে ওয়াশিংটন ও বেইজিং সতর্ক করে দিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে তারা আবার শুল্ক আরোপ করতে পারে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য (CPI) প্রকাশের অপেক্ষাও ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমিয়েছে।
এদিকে, জাপান ও যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক তথ্য কিছু সময়ের জন্য মার্কিন ডলারের বিপরীতে মুদ্রাগুলোর ওঠানামায় সহায়তা করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, US Dollar Index (DXY) এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেমে এসেছে এবং ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থানের কিছুটা হারিয়েছে। এতে সোনা ও অন্যান্য মুদ্রা আগের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠানামা করছে, আর কয়েক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ক্রিপ্টোকারেন্সি টানা তৃতীয় দিনের দরপতনের মুখে। এ ছাড়া, ওয়াল স্ট্রিটে উল্লেখযোগ্য উত্থান হলেও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলোতে গতি কম। বন্ডের ইল্ডও সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আর বাড়তে পারেনি।
GBPUSD মাসিক সর্বনিম্ন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, ফলে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এর সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন কিছুটা কমেছে। মার্কিন ডলারের দুর্বলতা, বাজারে দর স্থিতিশীল হওয়া এবং যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রি ও কার্ড খরচ বেড়ে যাওয়ার মতো ইতিবাচক প্রাথমিক তথ্য এই পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে।
যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত মিশ্র তথ্যের প্রভাব সীমিত ছিল। তবে BoE গভর্নর বেইলির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আরও কড়া নীতির প্রত্যাশা বাড়ায় পাউন্ডও সমর্থন পেয়েছে।
পাউন্ডের মতো ইউরো ও ইয়েনও ডলারের দরপতনের মধ্যে শক্তিশালী হয়েছে। 10 এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন স্তর থেকে EURUSD ঘুরে দাঁড়িয়েছে, যদিও EU-US উত্তেজনার মধ্যে ECB কর্মকর্তারা US-China চুক্তির গুরুত্ব কম করে দেখিয়েছেন। জাপানি কূটনীতিকেরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুদ্রার ওঠানামা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করার পর USDJPY পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তর থেকে নেমেছে, যা বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়। এদিকে, বাজারের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও BoJ-এর ডেপুটি গভর্নর উচিদা কঠোর নীতির অবস্থান বজায় রেখেছেন। তবে BoJ-এর সর্বশেষ বৈঠকের সারাংশে সতর্ক নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে।
সোমবারের রিস্ক র্যালিতে অংশ নিতে না পারলেও মঙ্গলবারের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান, নিউজিল্যান্ড ও কানাডিয়ান ডলার ঘুরে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্র-চীন চুক্তি নিয়ে দেরিতে তৈরি হওয়া আশাবাদ এবং দুর্বল মার্কিন ডলার এতে সহায়তা করে। ভোক্তা আস্থা ও ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মিশ্র তথ্য সত্ত্বেও AUDUSD দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে পুনরুদ্ধার করে। স্থানীয়ভাবে নতুন কোনো সহায়ক কারণ না থাকলেও NZDUSD-ও একই পথে এগিয়ে লোকসান পুষিয়ে নেয়। এদিকে, কানাডার অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে না পারলেও USDCAD পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নেমে আসে এবং টানা চার দিনের ঊর্ধ্বগতির ধারার অবসান ঘটে।



দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতনের পর সোনার দাম সামান্য বেড়েছে। এর পেছনে রয়েছে দুর্বল মার্কিন ডলার, যুক্তরাষ্ট্র-চীন চুক্তির পর চীনে চাহিদা বাড়ার আশা এবং ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা। মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে সতর্কতা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত এই ধাতুটির দামকে সমর্থন দিচ্ছে। এদিকে, তিন দিনের ঊর্ধ্বগতির পর WTI অপরিশোধিত তেলের দাম স্থির রয়েছে। ট্রেডাররা যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্য ও CPI পরিসংখ্যানের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শনিবার কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও Bitcoin (BTCUSD) এবং Ethereum (ETHUSD) টানা তৃতীয় দিনের মতো চাপে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দুর্বলতা, জোরালো ফান্ড ইনফ্লো, স্টেকিং নিয়ে আশাবাদ এবং US SEC-এর সহায়ক অবস্থান—কোনোটিই এই চাপ ঠেকাতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ডেটা প্রকাশের আগে বিপুল লিকুইডেশন এবং আগের বুলিশ অনুঘটকগুলো নতুন করে মূল্যায়নের কারণে ক্রিপ্টোর দামে চাপ পড়ছে বলে মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন চুক্তি নিয়ে আশাবাদে বাজারে গতি আসার পর, ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ ধরে রাখতে বিনিয়োগকারীরা এখন আরও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ইঙ্গিত খুঁজছেন। অগ্রগতি না হলে সোমবারের উত্থান থেকে দরপতন হতে পারে। এদিকে, মার্কিন CPI-এর শক্তিশালী তথ্য ডলারের দর আবার চাঙা করতে পারে, বিশেষত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে ক্রমবর্ধমান কঠোর অবস্থানের মনোভাবের কারণে।
এমন হলে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে EURUSD-এর পক্ষে দরবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে—যদিও জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ZEW সেন্টিমেন্ট ডেটা ইতিবাচক। সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পর BoE গভর্নর বেইলি আশাবাদী সুরে কথা বললে GBPUSD-এর দরপুনরুদ্ধার আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, সোনা ও তেলের দাম রেঞ্জের মধ্যে থাকতে পারে, আর নতুন অনুঘটকের অপেক্ষায় শেয়ারের দাম ওঠানামা করতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!