
ঝুঁকিবিরোধী মনোভাব জোরদার করতে পারে—এমন বড় কোনো শুল্কসংক্রান্ত খবর না থাকা, দুর্বল US ISM Services PMI এবং মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি Scott Bessent-এর মন্তব্যের সঙ্গে মিলিত হয়ে বাজারের মনোভাব উন্নত করেছে এবং মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ADP Employment-এর শক্তিশালী তথ্য এবং ফেডের কঠোর অবস্থানের মন্তব্য সত্ত্বেও, US Dollar Index (DXY) টানা তৃতীয় দিনের মতো কমে এক সপ্তাহের সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। এর ফলে প্রধান মুদ্রাগুলো ও সোনার দামে পুনরুদ্ধার হয়েছে।
এদিকে, মজুতের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এবং উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ট্রাম্পের আহ্বানে অপরিশোধিত তেলের দাম চাপে ছিল, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মুদ্রাগুলো শক্তিশালী হয়েছে। চীনের WTO-বিরোধ নিয়ে উত্তেজনা এবং ইরান ও পানামা খাল নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য অনিশ্চয়তা বাড়ায়, যা বুধবারের শুরুর দিকে Greenback-কে কিছুটা সমর্থন দিয়েছিল।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতার কারণে EURUSD টানা দুই দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বুধবার কিছুটা পিছিয়ে যায়। এদিকে, ডলারের ঘুরে দাঁড়ানোর গতি ধরে রাখতে পারেনি USDJPY; ডিসেম্বরের শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। ইউরোজোনের মিশ্র তথ্য এবং অঞ্চলটির অর্থনৈতিক রূপান্তর নিয়ে উদ্বেগের কারণে EURUSD চাপের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে, জাপানি কর্মকর্তাদের মন্তব্যে মূল্যস্ফীতি বাড়ার এবং ব্যাংক অব জাপানের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত পেয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে USDJPY।
প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল UK Services PMI এবং অর্থনীতির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কায় GBPUSD-এর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এতে Bank of England (BoE)-এর মুদ্রানীতির বৈঠকের আগে টানা তিন দিনের দরবৃদ্ধি থমকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রত্যাশিত BoE সুদের হার কমানো এবং মার্কিন ডলারের ঘুরে দাঁড়ানোও এক মাসের সর্বোচ্চ স্তর থেকে GBPUSD-এর দরপতনে ভূমিকা রাখছে।
অস্ট্রেলিয়ার ডিসেম্বরের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমে যাওয়া এবং নিউজিল্যান্ড ও কানাডার অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ—বিশেষ করে Trump-এর শুল্কযুদ্ধের পর—AUD, NZD ও CAD-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া, চীন-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায় AUDUSD ও NZDUSD চাপে রয়েছে, অন্যদিকে USDCAD-এর ঘুরে দাঁড়ানো আরও জোরালো হচ্ছে।
বাজারের অনিশ্চয়তা এবং দুর্বল US Dollar-এর সমর্থনে টানা ছয় দিন বাড়ার পরও সোনার দর সর্বকালের সর্বোচ্চ $2,882-এর কাছাকাছি লেনদেন হচ্ছে। তবে, Greenback-এর সাম্প্রতিক পুনরুদ্ধার এই রেকর্ড দরের কাছে XAUUSD-এর ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, বিশেষ করে নতুন বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক উদ্বেগের মধ্যে।
অন্যদিকে, ডলারের দুর্বলতা থেকে অপরিশোধিত তেল লাভবান হতে পারেনি। EIA-র সাপ্তাহিক অপরিশোধিত তেলের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় দামের ওপর চাপ পড়েছে। ট্রাম্পের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান এবং চীনে জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ার উদ্বেগও দাম আরও কমার চাপ বাড়িয়েছে।



2028 সালের মধ্যে বিটকয়েনের (BTCUSD) দাম $500K-তে পৌঁছাতে পারে—স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এমন বুলিশ পূর্বাভাস, বাজারের মিশ্র মনোভাব এবং ETF-এ বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে নতুন করে কেনাকাটা বাড়িয়েছে। তবে, আরও দরবৃদ্ধির পক্ষে বড় কোনো শিল্পবান্ধব খবর না থাকায় বিটকয়েন ও ইথেরিয়াম (ETHUSD) ঊর্ধ্বমুখী গতি পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
ডিসেম্বরে ইউরোজোনের খুচরা বিক্রির তথ্য, পাশাপাশি BoE-এর আসন্ন ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক বেকারত্ব ভাতার দাবি এবং Bank of Canada-এর গভর্নর টিফ ম্যাকলেমের বক্তব্য—এসব নিয়ে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা ব্যস্ত থাকবেন। তবে, শুল্কসংক্রান্ত খবর এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ভূরাজনৈতিক হালনাগাদের মতো ঝুঁকির বিষয়গুলোই মূল নজরে থাকবে।
EU-এর দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য এবং ECB-র নমনীয় অবস্থানের পূর্বাভাসের কারণে EURUSD-এর ওপর নিম্নমুখী চাপ পড়তে পারে। BoE-এর প্রত্যাশিত সুদের হার কমানো এবং যুক্তরাজ্যের চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ GBPUSD-কে নিচে ঠেলে দিতে পারে। এদিকে, USDJPY চাপের মুখে থাকতে পারে এবং বাজারের অনিশ্চয়তায় নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদা বাড়লে Gold ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পারে।
মার্কিন ডলার আগের লোকসান পুষিয়ে নিলে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রা, ক্রুড অয়েল এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম কমতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!