
এশিয়া ও যুক্তরাজ্যে ছুটি, মিশ্র US ডেটা এবং বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগের কারণে সপ্তাহের শুরুতে বাজার শান্ত ছিল, আর ভোলাটিলিটিও কম ছিল। জাপান ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ ছুটি শেষ হলেও, মঙ্গলবার বাজার শান্তই ছিল। ট্রেডাররা Fed ও BoE-এর নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং চীন, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ডেটাসহ মূল ইভেন্টগুলোর অপেক্ষায় ছিলেন। জাপান, চীন, EU ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে US-এর বাণিজ্য আলোচনা থমকে যাওয়া এবং US PMI-এর দুর্বল পরিসংখ্যানও বাজারের মনোভাবের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে—বিশেষ করে যখন White House, Trump-এর অর্থনৈতিক আশাবাদকে সমর্থন করতে হিমশিম খাচ্ছে।
সোমবার, যুক্তরাষ্ট্রের ISM Services PMI-এর শক্তিশালী তথ্যকে ছাপিয়ে যায় দুর্বল S&P Global PMI-এর তথ্য এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি Bassent-এর মন্তব্য। এতে ফেডের dovish অবস্থানের প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়। যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য আলোচনা থমকে যাওয়া এবং EU ও UK-এর যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগও বাজারের মনোভাবকে দুর্বল করে, যার চাপে পড়ে মার্কিন ডলার। এদিকে, চীনের মিশ্র PMI এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ বাজারে সতর্কতা বাড়ায়—যদিও যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে কিছুটা আশাবাদ ছিল।
এর ফলে, প্রধান মুদ্রা এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রার দর বাড়ায় মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বজায় রয়েছে। সোনার দাম স্থিতিশীল, তেলের দাম আগের ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে নিয়েছে, আর ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে শান্তভাবে ট্রেড করছে। এদিকে, শেয়ারের দাম সামান্য কমেছে এবং বন্ডের বাজারও নিস্তেজ রয়েছে।
নতুন প্রভাবক সীমিত থাকলেও মার্কিন ডলারের দুর্বলতা EURUSD ও GBPUSD-কে সাম্প্রতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। ইউরোপে, EU মার্কিন নীতির কারণে প্রভাবিত বিজ্ঞানীদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এদিকে Financial Times জানিয়েছে, UK-এর পেশাজীবীদের প্রবেশাধিকার সহজ করতে ইউরোপীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলমান শুল্ক উত্তেজনার মধ্যে US-EU ও US-UK বাণিজ্য আলোচনা থমকে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে ECB ও BoE কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এশিয়ায়, জাপানের পূর্ণাঙ্গ শুল্কছাড়ের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস, যা বাণিজ্য আলোচনা আরও কঠিন করে তুলেছে। এদিকে, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে থাকা সম্পদকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ধারণা নাকচ করেছেন টোকিওর কর্মকর্তারা। সাম্প্রতিক সতর্ক অবস্থানের পরও BoJ নীতিনির্ধারকেরা কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন, যা USDJPY-তে দরপতনের প্রত্যাশী ট্রেডারদের আশা জোগাচ্ছে—যদিও এই পেয়ার টানা দুই দিনের পতন থামাতে হিমশিম খাচ্ছে। পাশাপাশি, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে জাপানি ইয়েনের আকর্ষণ এই পেয়ারের ওপর আরও নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে।
দুই দিনের উত্থানের পর AUDUSD সামান্য কমেছে, অন্যদিকে টানা দরবৃদ্ধির পর NZDUSD স্থির হয়েছে। এদিকে, আগের দিন ইতিবাচকভাবে বন্ধ হওয়ার পর USDCAD অপরিবর্তিত রয়েছে। চীনের দুর্বল Caixin Services PMI, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সীমিত আশাবাদ এবং পণ্যের দাম কমে আসা—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক ইতিবাচক অগ্রগতি সত্ত্বেও এমনটা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, অস্ট্রেলিয়ার Building Permits প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, ANZ Commodity Prices বেড়েছে এবং কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলের প্রশংসা করেছে হোয়াইট হাউস।



টানা তৃতীয় দিনের মতো সোনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, দাম পৌঁছেছে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে। দুর্বল USD এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে তৈরি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এই ঊর্ধ্বগতিকে সমর্থন করছে। ভারতে কেনাকাটার মৌসুম, চীনে ছুটি এবং 21-SMA থেকে কারিগরি পুনরুদ্ধারও মূল্যবান ধাতুটির দরবৃদ্ধিকে আরও জোরালো করছে।
এদিকে, সপ্তাহের শুরুতে দরপতনের পর WTI Crude Oil-এ সামান্য উত্থান দেখা যাচ্ছে। OPEC+ সরবরাহ-সংক্রান্ত খবর এবং মার্কিন শুল্কের কারণে চাহিদা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তেলের দামে প্রভাব ফেলেছে। তবে, মঙ্গলবারের শুরুতে দুর্বল US Dollar এবং এপ্রিলের বহু-মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে শর্ট পজিশন বন্ধ করার প্রবণতা সংশোধনমূলক উত্থানে সহায়তা করেছে।
সোমবার Strategy-এর বিটকয়েন হোল্ডিং বাড়ানোর খবর এবং টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে ETF-এ অর্থপ্রবাহ বাজারের মনোভাবকে চাঙ্গা করে। ডলারও দুর্বল ছিল। তা সত্ত্বেও, মঙ্গলবার দিনের শুরুতে Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)—দুটিতেই সামান্য দরপতন দেখা যায়। তবে, বাজারের অস্থিরতা এবং ক্রিপ্টো খাতে ইতিবাচক অগ্রগতির অভাব সাম্প্রতিক সময়ে দামকে চাপে রেখেছে।
মঙ্গলবারের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে থাকবে জার্মানি, EU ও যুক্তরাজ্যের এপ্রিলের PMI-এর চূড়ান্ত তথ্য, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ভারসাম্য। তবে এসব তথ্য বাজারকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা কম, কারণ ট্রেডাররা সপ্তাহের শেষদিকে আসন্ন FOMC ও BoE-এর ঘোষণায় মনোযোগ দিচ্ছেন। শুল্ক নিয়ে মিশ্র খবর এবং ভূরাজনীতি নিয়ে সীমিত হালনাগাদ বাজারের গতি আরও কমাতে পারে, ফলে দিনটি তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে, বাজারে দর একীভূত হওয়ার সময় US Dollar-এর দামে সংশোধনমূলক উত্থান দেখা যেতে পারে, যা প্রধান মুদ্রা, অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রা এবং ক্রুড অয়েলের দামের পরীক্ষা নিতে পারে। এদিকে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আকর্ষণের কারণে Gold, CHF ও JPY শক্ত অবস্থানে থাকতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!