লগ আউট
Are you sure you want to exist?

মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামার 7টি কারণ

আজকের দিনে ফরেক্স ট্রেডিং যেন রোলার কোস্টারে চড়ার মতো। বিনিময় হার ক্রমাগত বদলাচ্ছে—কিছু মুদ্রার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠছে, আবার অন্যগুলো তলানিতে নেমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। ফলে মুদ্রার মান ক্রমাগত কমতে বা বাড়তে দেখা যায়। এমনকি কিছু মেজর কারেন্সি পেয়ারেও এই ওঠানামা দেখা যায়।

None

এমন কোনো ইন্ডিকেটর আছে বলে মনে হয় না, যা স্পষ্টভাবে এই ওঠানামার পূর্বাভাস দিতে বা তা শনাক্ত করতে পারে। তাই অপ্রত্যাশিত বাজার-চলাচলের ক্ষেত্রে আপনার ট্রেডিং কৌশল কীভাবে বদলাবেন, তা বুঝতে বিনিময় হার ওঠানামার কারণগুলো জানতে হবে।

মুদ্রার দামে ওঠানামা হয় কেন?

ফরেক্স ট্রেডার হিসেবে আপনি সম্ভবত জানেন, বেশিরভাগ মুদ্রার বিনিময় হার ভাসমান। বিশেষজ্ঞরা একে কখনো কখনো নমনীয় বিনিময় হারও বলেন। সহজভাবে বললে, ফরেন এক্সচেঞ্জ বাজারে অন্তর্নিহিত অ্যাসেটের সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে তার বিনিময় হার ওঠানামা করে।

ফরেক্স ট্রেডিং শুরু করার জন্য এই দুটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করা দরকার। একই সঙ্গে, অন্যান্য বিষয়ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চলুন, প্রতিটি বিষয় আরও বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যাক।

1. মুদ্রার সরবরাহ

সরবরাহ বলতে ট্রেডিংয়ের জন্য উপলভ্য মুদ্রার পরিমাণ বোঝায়। কোনো অ্যাসেটের সরবরাহ বাড়লে তার মূল্যও কমে যায়। অনেক নতুন ট্রেডার মনে করেন, মুদ্রার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

আদর্শ পরিস্থিতিতে কথাটি সত্য। কিন্তু বাস্তবে, আরও অনেক কারণে সরবরাহ বাড়তে বা কমতে পারে। কিছু ট্রেডার তাদের ট্রেড করা নির্দিষ্ট ইন্সট্রুমেন্টের মূল্য কমাতে কৃত্রিমভাবে সরবরাহ বাড়ান। বাজার অতিরিক্ত ওভারসোল্ড অবস্থায় থাকলেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।

2. মুদ্রার চাহিদা

চাহিদা বলতে এই মুহূর্তে ট্রেডাররা যে পরিমাণ অ্যাসেট কিনতে আগ্রহী, তা বোঝায়। এক্ষেত্রে ইন্সট্রুমেন্টের দামে চাহিদার পরিবর্তনের প্রভাব সরবরাহের প্রভাবের বিপরীত। চাহিদা বাড়লে এবং আরও বেশি ট্রেডার অ্যাসেটটি কিনতে চাইলে, এর মূল্যও বাড়ে।

মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামার পেছনে থাকা অতিরিক্ত কারণ

চাহিদা ও সরবরাহই মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামার একমাত্র কারণ নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফরেক্স বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি করতে। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, খবর ইত্যাদিসহ অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অর্থনৈতিক কারণগুলোও ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই, মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা নিয়ে কথা বলার সময় আরও যেসব কারণ বিবেচনায় রাখতে হবে, সেগুলো হলো:

মুদ্রাস্ফীতির হার

বিনিময় হারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হলেও, জাতীয় মুদ্রার ওঠানামার অন্যতম প্রধান কারণ হলো মুদ্রাস্ফীতি। মুদ্রাস্ফীতি নির্ধারণ করে, জনগণের জন্য পণ্য ও পরিষেবার দাম কতটা বেশি হবে।

মাঝারি মাত্রার মুদ্রাস্ফীতি একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল অর্থনীতির লক্ষণ। মুদ্রাস্ফীতি খুব বেশি বেড়ে গেলে মুদ্রাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং এর মূল্য কমতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পদক্ষেপ নেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলতে এমন ‘জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যাদের লক্ষ্য হলো আর্থিক ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা এবং জাতীয় মুদ্রার মূল্য সুরক্ষিত রাখা। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে বিভিন্ন উপায় ও সরঞ্জাম রয়েছে:

  • মুদ্রানীতি—জাতীয় অর্থনীতিকে চাঙা করার একটি উপায়। মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদা নিয়ন্ত্রণে (মুদ্রার প্রচলন নিয়ন্ত্রণে) কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সহায়তা করতে এটি ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি, সুদের হার নির্ধারণের মানদণ্ড হিসেবেও মুদ্রানীতি কাজে লাগে।
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদের হার—বিশেষজ্ঞরা একে ফেডারেল ফান্ড রেট বলেন। এই উপায়ের মাধ্যমে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনা করতে পারে। সাধারণত, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বাড়ানো বা কমানোর জন্য এই হার নির্ধারণ করা হয়।
  • ওপেন মার্কেট অপারেশন—সংক্ষেপে OMO নামেও পরিচিত। এই ব্যবস্থায় বন্ড, শেয়ার ইত্যাদি কেনা বা বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন সিকিউরিটিজ ট্রেড করার জন্য সরকার সরাসরি ওপেন মার্কেটে অংশ নেয়।

আন্তর্জাতিক ট্রেডিং

রপ্তানি পণ্যের দাম বাড়া দেশের জন্য অনুকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে আমদানি পণ্যের দামের তুলনায় রপ্তানি পণ্যের দাম দ্রুত বাড়লে। এতে দেশের রাজস্ব বাড়ে এবং মুদ্রা আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হয়, ফলে তার মূল্যও বেশি থাকে।

জাতীয় ঋণ

কখনো কখনো নতুন প্রকল্প শুরু করতে বা চলমান প্রকল্পের উন্নয়নে সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজনীয় মূলধন জোগাড়ের একমাত্র উপায় হলো ঋণ নেওয়া—বিশেষ করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হলে। এ ধরনের পদক্ষেপ অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে। ঋণ শোধ করতে সরকার সম্ভবত ঋণের অর্থ জোগাতে আরও বেশি টাকা ছাপাবে। এতে জাতীয় মুদ্রার বিনিময় হার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সম্পদের মূল্য কমে যাবে।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমাগত বদলানোর কারণে মুদ্রার দামে ওঠানামা হতে পারে। কোনো দেশ রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংকটে পড়লে, মানুষ তাদের সঞ্চয় রাখার জন্য আরও নিরাপদ জায়গা খুঁজবে।

দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ মনে না হওয়ায় জাতীয় মুদ্রার প্রতি তাদের আগ্রহ আর থাকে না। এ কারণেই প্রধান কারেন্সি পেয়ারগুলো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল এবং শক্তিশালী দেশের মুদ্রা নিয়ে গঠিত হয়। এসব পেয়ারের বিনিময় হার তাই সবচেয়ে বেশি।

সারসংক্ষেপ

মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ট্রেডারদের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে হতে পারে। পাশাপাশি, সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এখানে ট্রেডারদের জন্য খারাপ খবর হলো, মুদ্রার ওঠানামার কারণ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার মতো কোনো ফরেক্স ইন্ডিকেটরনেই।

তাই, টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের বদলে ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসের ওপর নির্ভর করতে হবে। কোনো দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং সরবরাহ ও চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বিষয় সম্পর্কে আপনার কাছে যত বেশি ভেতরের তথ্য থাকবে, তত বেশি নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে পারবেন।

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।