
এই নিবন্ধে নতুন ট্রেডারদের জন্য রিভেঞ্জ ট্রেডিংয়ের একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, রিভেঞ্জ ট্রেডিংয়ের অর্থ, ট্রেডারদের কেন এটি এড়ানো উচিত এবং কীভাবে এটি কাটিয়ে ওঠা যায়—এসবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকবে। রিভেঞ্জ ট্রেডিং আগে থেকে বুঝতে ও এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও এতে রয়েছে।
সহজভাবে বললে, কোনো ট্রেডারের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হলে এবং বিদ্যমান কৌশল পর্যালোচনা করার বদলে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে তিনি ট্রেড চালিয়ে গেলে, সেই পরিস্থিতিকে রিভেঞ্জ ট্রেডিং বলে। এর ফলে অনিবার্যভাবে আরও বেশি ক্ষতি হয়।
সাধারণত, ট্রেডাররা রিভেঞ্জ ট্রেডিং করলে দুটি প্রধান পরিস্থিতির যেকোনো একটি দেখা যায়।
তাঁরা হয়:
অথবা



এখানে কয়েকটি সংক্ষিপ্ত পরামর্শ পাবেন, যা আপনাকে রিভেঞ্জ ট্রেডিংয়ে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখবে এবং আপনার মূলধন সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।
হয়তো সবচেয়ে কঠিন, কিন্তু সবচেয়ে যুক্তিসংগত প্রথম পদক্ষেপ হলো ট্রেডিং থেকে সরে আসা। প্রতিটি ট্রেডে স্টপ লস দেওয়ার পেছনে কারণ আছে। তাই এমন পরিমাণ মূলধন ঝুঁকিতে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো, যে পরিমাণ হারালে আপনার বড় ধরনের বিপর্যয় হবে না।
এ ছাড়া, বুঝতে হবে যে বাজারের দ্রুত ওঠানামার কারণে ফরেক্স ও এ ধরনের অন্যান্য বাজারে রিভেঞ্জ ট্রেডিং করলে মূলধন আরও দ্রুত হারানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। ট্রেডারদের মেনে নিতে হবে যে সময়ে সময়ে তাদের লোকসান হবেই। সম্ভাব্য লোকসান দেখে আতঙ্কিত না হয়ে, সেটিকে তাদের বিদ্যমান কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
লোকসান ট্রেডিংয়েরই অংশ, কিন্তু লোকসানের প্রতিক্রিয়ায় রিভেঞ্জ ট্রেডিং কোনো কৌশল বা যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নয়। এটি পুরোপুরি অহংবোধ ও আবেগের ওপর নির্ভরশীল, তাই ট্রেডারদের এমন কিছু বেছে নেওয়া উচিত নয়—যদি তারা সফল ট্রেডার হতে চান।
মনে রাখবেন, প্রতিশোধমূলক ট্রেডিং শুরু করলে আপনি আসলে কোনো কৌশল ছাড়াই আপনার অর্থ জুয়ার মতো ঝুঁকিতে ফেলছেন এবং ট্রেডিংয়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ধারণা উপেক্ষা করছেন। ফলে, আপনি কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে জুয়া খেলছেন—তখন আর ট্রেডিং করছেন না।

তার বদলে, ঘর থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ অন্য কিছু করে দেখতে পারেন। এতে ট্রেডিং থেকে মনও সরে যাবে। যখন আপনার মন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে—লোকসানের কারণে তৈরি হওয়া নেতিবাচক আবেগ থেকে মুক্ত হবে—তখন নতুন ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আবার ট্রেডিংয়ে ফিরতে পারবেন।
শেষে, সামনে এগোনোর আগে আরেকটি বিষয়। বড় কোনো ট্রেড নেওয়ার আগে নেতিবাচক আবেগ অনুভব করতে শুরু করলে, ট্রেড না করাই ভালো হতে পারে। যেমন, উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত বোধ করলে কিছুক্ষণের জন্য সরে গিয়ে পরে ফিরে আসাই ভালো হতে পারে।
এভাবে আবেগের ভারসাম্য নষ্ট থাকা অবস্থায় ট্রেড নেওয়া এড়াতে পারবেন, যে অবস্থায় প্রতিশোধমূলক ট্রেডিং করার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।
ধারণাটি সহজ, তবে অনেক সময় সহজ পদ্ধতিই সবচেয়ে ভালো। ট্রেডিংয়ে লোকসানের তথ্য বিশ্লেষণ করুন। ঠিক কী ঘটেছিল, তা বোঝার চেষ্টা করুন। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন: ‘ট্রেডে লোকসান হলো কেন? এটি ঠেকাতে আমি কী করতে পারতাম? আমার ট্রেডে কি কিছু অনুপস্থিত ছিল?’
লোকসানের কারণ পুরোপুরি বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে একই ভুল আবার করা এড়াতে পারবেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে একই ধরনের ট্রেডিং প্যাটার্ন শনাক্ত করতে পারবেন এবং আশা করা যায়, সেগুলো আগে থেকে আঁচ করে এড়াতেও পারবেন।
MTrading-এ বিনামূল্যে একটি ডেমো অ্যাকাউন্ট খুলে রিয়েল-টাইম ট্রেডিং তথ্য ব্যবহার করে ভার্চুয়াল ফান্ড দিয়ে ট্রেড করতে পারবেন। এতে লাইভ মার্কেটে আপনার কৌশল পরীক্ষা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত মূলধন ঝুঁকিতে ফেলা এড়াতে পারবেন। আরেকটি উপায় হলো সফল ট্রেডারদের ট্রেড কপি করা, যাতে আপনি সঠিক পথে এগোচ্ছেন বলে নিশ্চিত হতে পারেন।
বিষয়টি শুনতে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে, তবে বড় কোনো ট্রেড করার আগে আপনার ক্ষেত্রে কিছু ‘ট্রেডিং ট্রিগার’ দেখা দিতে পারে। এগুলোর সঙ্গে ট্রেডিংয়ের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নাও থাকতে পারে—যেমন অতিরিক্ত নাশতা খাওয়া বা প্রচুর কফি পান করা।
বড় ট্রেড করার আগে আপনি কী করছেন এবং কী ভাবছেন, সেদিকে খেয়াল রাখুন। এই ‘ট্রিগার’গুলো বুঝতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে, ‘সতর্কসংকেত’ শনাক্ত করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রতিশোধমূলক ট্রেড করা এড়াতে পারেন।
এ ধরনের বিষয়ের হিসাব রাখতে আপনি একটি ট্রেডিং ‘লগ’ বা ‘জার্নাল’ রাখতে পারেন। এতে ট্রেডিং সেশনে আপনার আচরণ মনে করতে ও তা নতুন করে মূল্যায়ন করতে নিয়মিত জার্নালটি দেখতে পারবেন।
আপনার ট্রেডিং সিস্টেম না থাকলে, সেটাই আপনার প্রথম ভুল। আর সিস্টেম থাকলে, এই ক্ষেত্রে সেটি কেন কাজ করেনি তা বুঝতে সময় নিন। হয়তো কৌশলটি ব্যবহার করার কারণেই আপনার ক্ষতি হয়েছে, অথবা ভবিষ্যতে সফল হতে হলে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কৌশল ব্যবহার করতে হবে।
কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে আপনি বিষয়টি বুঝতে পারেন: এই সিস্টেম কি কাজ করছে? অতীতে এটি ব্যবহার করে কি লাভজনক ট্রেড করেছি? ক্ষতির পর্যায় পেরিয়ে পুরো কৌশলটি অনুসরণ করলে কি ফল আলাদা হতো? কৌশলটি ধরে রাখলে কি আরও ভালো ফল হতে পারত?
এই দুটি শব্দ বারবার শুনে হয়তো আপনি ক্লান্ত, কিন্তু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাই সেরা ট্রেডারদের অন্যদের থেকে আলাদা করে। সামনে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও, শীর্ষ পেশাদার ট্রেডাররা ঠিক জানেন কখন ট্রেড বন্ধ করতে হবে।

প্রতিশোধমূলক ট্রেডিং এড়ানোর এটাই সেরা উপায়। কখন ট্রেড চালিয়ে যাবেন আর কখন তা থেকে বেরিয়ে আসবেন, তা নির্দিষ্টভাবে জানুন। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কৌশল কঠোরভাবে মেনে চলুন, তাহলে বড় ক্ষতি এড়াতে পারবেন। সঠিকভাবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করলে লাভের সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ক্ষতির সম্ভাবনা কমাতে পারেন।
কেউই ক্ষতি করতে চান না, আর লাভের আনন্দের সঙ্গে সবাই পরিচিত। তবে মনে রাখবেন, ট্রেডিংয়ে সংখ্যাই মূল বিষয়। সংখ্যার মান নির্দিষ্ট, তাই আপনার আবেগ সেগুলো বদলাতে পারে না।
নিজের অহংবোধ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং ট্রেড চলাকালে আবেগের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখুন। এতে আপনি বাজারের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকবেন এবং বুঝতে পারবেন কখন এগিয়ে যাওয়ার সময়, আর কখন সরে আসার সময়।
বাজার আপনার বিরুদ্ধে নয়, আর ক্ষতিকে কখনোই ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। এ কারণেই ‘ট্রেডিং ডিসিপ্লিন’ নিয়ে এত নিবন্ধ রয়েছে—নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা আপনার ব্যবহৃত ট্রেডিং কৌশলের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত, আপনার মানসিকতাই আপনার কাজ নির্ধারণ করে।
প্রতিশোধমূলক ট্রেডিং কী এবং কীভাবে তা এড়াতে হয়, তা ভালোভাবে বুঝেছেন বলে যদি আপনার আত্মবিশ্বাস থাকে, তাহলে পরের যুক্তিসংগত পদক্ষেপ হতে পারে ডেমো ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে আপনার কৌশলগুলো পরীক্ষা করা। ডেমো ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট শুধু নতুন ট্রেডারদের জন্য নয়!
আপনি যদি নিয়মিত বিভিন্ন কৌশল পরীক্ষা করেন, তাহলে লাইভ মার্কেটে যাওয়ার আগে প্রথমে একটিঝুঁকিমুক্ত ট্রেডিং পরিবেশে তা করা পুরোপুরি যুক্তিসংগত। আপনার ট্রেডিং শুভ হোক। আমরা আশা করি, শিগগিরই আমাদের সঙ্গে আপনাকে ট্রেড করতে দেখব।
বাস্তব ট্রেডিংয়ের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে চান? ফরেক্সে পজিশনের আকার নির্ধারণ নিয়ে আমাদের নিবন্ধটি পড়ুন।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।