লগ আউট
Are you sure you want to exist?

ফরেক্স মার্কেট কে নিয়ন্ত্রণ করে এবং বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে প্রভাব ফেলে?

আপনি ফরেক্স ট্রেডিংকে বাড়তি আয়ের উপায় হিসেবে দেখুন বা পূর্ণকালীন আয়ের সুযোগ হিসেবে—তাতে কিছু যায় আসে না। ফরেক্স বাজার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ট্রেড হওয়া আর্থিক বাজারগুলোর একটি। কে এটি নিয়ন্ত্রণ করে, তা না জেনেই লাখ লাখ ব্যক্তি ও খুচরা বিনিয়োগকারী এতে অংশ নেন।

None

এই নিবন্ধে আমরা এমন কয়েকটি প্রভাবশালী শক্তি নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলো বিভিন্নভাবে FX বাজারকে প্রভাবিত করে। এগুলো বুঝতে পারলে বাজার কীভাবে চলে, তা বোঝা সহজ হবে। এতে আপনি সম্ভাব্য দামের পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পেতে এবং সেই অনুযায়ী ফরেক্স কৌশল প্রয়োগ করতে পারবেন।

ফরেক্স বাজার কে পরিচালনা করে?

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যা অনেক নতুন ট্রেডার কোনো এক কারণে উপেক্ষা করেন। সাধারণভাবে, বাজার পরিচালনা এবং দাম ও ট্রেন্ড কীভাবে নির্ধারিত হবে তা নিয়ন্ত্রণ করার পেছনে 4টি প্রধান শক্তি বা নেটওয়ার্ক রয়েছে। এই বৈশ্বিক নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে রয়েছে ফরেক্সের বৃহত্তম শহর—নিউ ইয়র্ক, সিডনি, টোকিও ও লন্ডনের ব্যাংকগুলো।

সাধারণত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক সংস্থার মালিকানাধীন এসব ব্যাংকই বৈশ্বিক মুদ্রা ট্রেডিংয়ের একমাত্র অংশগ্রহণকারী নয়। আরও কিছু শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

FX বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রধান শক্তিগুলো

আপনি জানেন, কারেন্সি পেয়ার সবচেয়ে বেশি ট্রেড হওয়া ইনস্ট্রুমেন্টগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে এই বাজারের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনো একক শক্তি নেই। বরং, বাজারের এই অংশকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রধান শক্তি হিসেবে চার ধরনের অংশগ্রহণকারীকে দেখা হয়। তারা হলো:

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন
  1. কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান।
  2. বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক ও বড় হেজ ফান্ড।
  3. বহুজাতিক করপোরেশন ও বৈশ্বিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
  4. ব্যক্তি ও খুচরা বিনিয়োগকারী, যারা অপারেটর নামেও পরিচিত।

এবার দেখে নেওয়া যাক, উপরে উল্লেখ করা প্রতিটি শক্তি কীভাবে আপনার ফরেক্স ট্রেডিংকে প্রভাবিত করতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার আসলে একই ধরনের কাজ করে। তারা প্রয়োজনে মুদ্রার দাম নিয়ন্ত্রণ করতে বা স্থিতিশীল রাখতে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ব্যবস্থাপনা এবং মৌলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনাও তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার নির্ধারণ করে এবং মুদ্রার দামের ওঠানামা সামাল দেয়। এ কারণেই ফরেক্স বাজারে তাদের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।

হেজ ফান্ড ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপকরা সাধারণত পেনশন ফান্ড, এনডাউমেন্ট এবং অন্যান্য ধরনের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মুদ্রা কেনাবেচা করেন। এতে তারা জল্পনামূলক ট্রেড করতে পারেন।

বহুজাতিক করপোরেশনগুলো বিদেশি মুদ্রাসহ বিভিন্ন মুদ্রায় আমদানি-রপ্তানির লেনদেনে ব্যাপকভাবে যুক্ত থাকে। এর ফলে তারা বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারে। কোনো সমস্যা হলে, অন্যান্য সম্পদ ও বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুদ্রার ঝুঁকির বিরুদ্ধে হেজ করতে হয়।

ব্যক্তিগত ট্রেডাররা বাজারের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে কম। তারা বিভিন্ন ফরেক্স কৌশল ব্যবহার করে কারেন্সি পেয়ার কেনাবেচা করেন, যেগুলো নির্ভর করে টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর, প্রাইস প্যাটার্ন, সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লাইন ইত্যাদির ওপর।

বিশ্বমঞ্চে ফরেক্স বাজারের ভূমিকা

FX বাজারের গুরুত্ব অতিরঞ্জিত করে বলাও কঠিন। বহু দশক ধরে এটি ব্যবসার ধরন গড়ে তুলছে। বিশ্বজুড়ে বিদেশি কোম্পানি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ফল এতে প্রতিফলিত হয়।

মুদ্রার মূল্য নির্ধারণের প্রধান কারণগুলো

মুদ্রার মূল্যের প্রধান নির্ধারক হলো চাহিদা ও সরবরাহ। তবে সম্পদের দামকে প্রভাবিত করতে পারে এমন একমাত্র বিষয় এটি নয়। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে:

  • টাকা ছাপানো;
  • বিদেশি পণ্য ও পরিষেবার দাম;
  • অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও সুস্থতা;
  • দেশের জাতীয় ঋণ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

উদাহরণস্বরূপ, অর্থনীতি সামলানোর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়গুলোর একটি হলো টাকা ছাপানো। যত বেশি টাকা ছাপানো হয়, মুদ্রার মূল্য তত বেশি কমে যায়। বিপরীতে, অল্প পরিমাণ টাকা ছাপানো হলে সেই মূল্য অনিবার্যভাবে বেড়ে যায়।

এ ছাড়া, অর্থনীতির অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মন্দা ও অর্থনৈতিক সংকোচনের সময় একটি দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে যায়, ভোক্তাদের ব্যয় কমে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে না।

রাজনৈতিক বিষয় ও অন্যান্য কারণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অবশ্যই, তা নির্ভর করবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার মাত্রা, দুর্নীতির মাত্রা এবং প্রচলিত অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ের প্রধান কৌশল

প্রত্যেক ট্রেডার নিজের পছন্দ অনুযায়ী ট্রেডিংয়ের ধরন বেছে নেন। তবে সব ফরেক্স কৌশলের জন্যই স্পষ্ট ট্রেডিং লক্ষ্য এবং তা অর্জনের স্বচ্ছ পদ্ধতি দরকার। সহজভাবে বললে, ফরেক্স মার্কেট থেকে আপনি কী পেতে চান এবং কীভাবে তা করবেন, তা জানা জরুরি। স্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়া মুদ্রায় ট্রেড করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো:

  1. বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য অনলাইন ফরেক্স ব্রোকার বেছে নেওয়া।
  2. ট্রেডিংয়ের কৌশল ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে কিছু বিষয় আরও ভালোভাবে সাজিয়ে নেওয়া।
  3. নিয়মিত বিশ্লেষণ করা এবং প্রতিটি ট্রেডের রেকর্ড রাখা, যাতে কৌশলটির দুর্বল ও শক্তিশালী দিকগুলো চিহ্নিত করা যায়।
  4. বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচক্ষণতার সঙ্গে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

সারসংক্ষেপ

সফল ফরেক্স ট্রেডার হওয়ার একমাত্র উপায় হলো বাজারের সব জটিলতা এবং বাজারকে কোনো না কোনোভাবে বদলে দিতে পারে এমন প্রক্রিয়াগুলো বোঝা।

মুদ্রার দামকে প্রভাবিত করতে পারে এমন অনেক বাজার-অংশগ্রহণকারী ও শক্তি থাকায়, এ বিষয়ে শেখা কঠিন হতে পারে। তবে পেশাদারদের এটাই করার কথা, আর এভাবেই তাঁরা নতুনদের থেকে আলাদা হন।

আজ আমাদের কাছে বাজার সম্পর্কে যতটা সম্ভব শেখার জন্য অফুরন্ত তথ্যসূত্র ও ফরেক্স শিক্ষার চ্যানেল রয়েছে। আপনার ফরেক্স কৌশলগুলোকে আরও উন্নত করার এই সহজ উপায়গুলো উপেক্ষা করবেন না।

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।