লগ আউট
Are you sure you want to exist?

নতুনদের জন্য হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং সিস্টেমের ব্যাখ্যা

হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং, সংক্ষেপে HFT, এমন একটি পদ্ধতি যা অত্যাধুনিক অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করে। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো একই সময়ে একাধিক অর্ডার দিয়ে বিদ্যুৎগতিতে ট্রেড কার্যকর করা।

None

এটি করতে ফরেক্স ট্রেডাররা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এ ছাড়া, মুহূর্তের ভগ্নাংশের মধ্যে অর্ডার সম্পন্ন করতে হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিংয়ে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার প্রয়োজন। এভাবেই হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডাররা বাজারের ওঠানামা থেকে সুবিধা নিতে পারেন।

এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব, সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করে এবং এটি ব্যবহার করা সত্যিই সার্থক কি না। এটি সব ধরনের ট্রেডারের জন্য উপযোগী হওয়ার সম্ভাবনা কম। সাধারণত HFT উন্নত দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন বাজারের অংশগ্রহণকারীদের জন্য। এ ছাড়া, এই পদ্ধতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অসুবিধাও রয়েছে, যা নতুনদের এই কৌশলে গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার আগে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

তাহলে, শুরু করা যাক।

হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং কী

আগেই বলা হয়েছে, HFT হলো এক ধরনের অ্যালগরিদমিক ট্রেডিং। এর মূল লক্ষ্য হলো সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে যত বেশি সম্ভব ট্রেড সম্পন্ন করা। ট্রেডিংয়ের সময়সীমা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। এর ফলে ট্রেডাররা বাজারের বিভিন্ন ওঠানামা থেকে সুবিধা নিতে পারেন।

HFT এবং প্রচলিত অ্যালগরিদমিক ট্রেডিং পদ্ধতির মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো, হাই-ফ্রিকোয়েন্সি পদ্ধতিতে মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার ট্রেড করা সম্ভব। অন্যদিকে, প্রচলিত অ্যালগরিদমিক পদ্ধতিতে ট্রেডাররা একবারে মাত্র কয়েকশ ট্রেড করতে পারেন।

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

সাধারণত HFT হলো প্রতিষ্ঠান ও বড় আর্থিক সংস্থার জন্য একটি উপকরণ। এই সিস্টেম জটিল গাণিতিক অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করে, যা ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের পক্ষে বোঝা কঠিন হতে পারে। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হাজার হাজার ঘটনা ও খবর দ্রুত বিশ্লেষণ করা যায়। ফলে HFT ট্রেডিংয়ের অতিরিক্ত সুযোগ এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে।

HFT ব্যবহারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট ব্যবস্থা প্রয়োজন। মাইক্রোসেকেন্ডের মধ্যে পজিশন খোলা ও বন্ধ করতে হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিংয়ের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী কম্পিউটার, অত্যাধুনিক সফটওয়্যার এবং ট্রেডিং প্রোগ্রাম দরকার। সহজভাবে বললে, বাজারের অংশগ্রহণকারীদের তাদের মূল ট্রেডিং গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সময় বিলম্ব কমাতে HFT ব্যবহার করা যেতে পারে।

হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং কি বৈধ?

HFT ব্যবহার করা 100% বৈধ। তবে, আপনার অনলাইন ফরেক্স ব্রোকার সম্ভবত এটি অনুমোদন করবে না। এ ছাড়া, কিছু ব্রোকার ল্যাটেন্সি-নির্ভর আর্বিট্রাজ পদ্ধতিসংক্রান্ত ফরেক্স কৌশল নিষিদ্ধ করে। তাই ট্রেড করার জন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার আগে সব শর্তাবলি পড়ে নিন। অন্যথায়, আপনি ব্রোকারের নিয়ম লঙ্ঘন করতে পারেন।

যদিও HFT-এর সাধারণ চর্চা বৈধ, এর কিছু পদ্ধতি এখনও বিতর্কিত এবং সেগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানত রয়েছে স্পুফিং এবং ফ্রন্ট-রানিং। চলুন, প্রতিটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

স্পুফিং

HFT সিস্টেম দ্রুত বিপুলসংখ্যক ট্রেডের অর্ডার দিতে শুরু করলে স্পুফিং করা হয়। তবে অর্ডারগুলো কার্যকর করার জন্য দেওয়া হয় না। কার্যকর হওয়ার আগেই অ্যালগরিদম সেগুলো বাতিল করে দেয়। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো চাহিদা আছে—এমন একটি ধারণা তৈরি করা। সহজভাবে বললে, এর মাধ্যমে কোনো অন্তর্নিহিত সম্পদের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করা হয়।

ফ্রন্ট-রানিং

কখনও কখনও HFT সিস্টেমের ব্যবহারকারী বা হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং করা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো নির্দিষ্ট কারেন্সি পেয়ারের বড় অর্ডার কার্যকর হওয়ার আগেই শনাক্ত করতে পারে। সাধারণত, ইনসাইডার বা অপ্রকাশ্য তথ্য সরবরাহকারীরা এই বেআইনি কাজটি করে। এর ফলে HFT প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণ সম্পদ কিনে পরে অনেক বেশি মুনাফায় বিক্রি করার সুযোগ পায়।

গত 2 দশকে ফ্রন্ট-রানিংয়ের মতো চর্চা নিয়ন্ত্রণে শিল্পখাতে বিভিন্ন নিয়ম চালু হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো সব বাজার অংশগ্রহণকারীকে সুরক্ষা দেওয়া, সবার জন্য ন্যায্য ট্রেডিংয়ের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখা।

বর্তমানে, সব অংশগ্রহণকারীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে আসা অর্ডারের গতি কমানোর তথাকথিত সার্বজনীন স্পিড বাম্প পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া, অনলাইন ফরেক্স ব্রোকারদের পাশাপাশি অন্যান্য ট্রেডিং ভেন্যুতেও অধিকাংশ HFT সিস্টেম নিষিদ্ধ।

হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিংয়ের সুবিধা ও অসুবিধা

HFT-এর কিছু সুবিধা থাকতে পারে (মূলত প্রতিষ্ঠানের জন্য), তবে ব্যক্তিগত ও রিটেইল ট্রেডারদের জন্য এটি কোনো সুবিধা বয়ে আনে না। এ ছাড়া, নির্বিঘ্নে কাজ করার জন্য এতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার প্রয়োজন। তা না হলে, এটি করার কোনো অর্থ নেই। এর প্রধান সুবিধা ও অসুবিধাগুলো হলো:

সুবিধা:

  • সব ট্রেড কম্পিউটার-ভিত্তিক অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করে। অর্ডার দেওয়া বা কার্যকর করার কোনো ধাপই হাতে করা হয় না। সবকিছুই মেশিন করে। কিছু ট্রেডার এমন কৌশলের ওপর নির্ভর করতে পছন্দ করেন, যেখানে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
  • HFT সিস্টেম খুব দ্রুত—এটি সত্যি। অ্যালগরিদম মাইক্রোসেকেন্ডের মধ্যে হাজার হাজার অর্ডার কার্যকর করতে পারে। এ ছাড়া, মেশিন বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এমন হাজার হাজার ঘটনা ও খবর বিশ্লেষণ করতে পারে।

অসুবিধা:

  • অধিকাংশ অনলাইন ফরেক্স ব্রোকার ও অন্যান্য ট্রেডিং ভেন্যুতে হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং নিষিদ্ধ। এর কিছু পদ্ধতি বেআইনি।
  • মেশিন নিখুঁত নয়। আমরা এর আগে ট্রেডিং বট ব্যবহার করার প্রক্রিয়া এবং এর সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করেছি। HFT-এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আপনি পুরোপুরি কম্পিউটারের ওপর নির্ভর করতে পারেন না, কারণ সেগুলোও মাঝেমধ্যে বিকল হয়। এ ছাড়া, সেগুলো কিছু ঘটনা ভুলভাবে বুঝতে পারে এবং বাজারের অস্থিরতায় যথাযথভাবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হতে পারে।
  • HFT সবার জন্য নয়। এটি চালু ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কিছু প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কম্পিউটার-সম্পদ প্রয়োজন।

সারসংক্ষেপ

হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং হলো অ্যালগরিদমিক ট্রেডিং বা বটেরই আরেকটি ধরন। একমাত্র পার্থক্য হলো, HFT-এর মাধ্যমে কম সময়ে আরও বেশি ট্রেড কার্যকর করা সম্ভব। তবে এই পদ্ধতি নিখুঁত নয়। এটি ব্যক্তিগত ট্রেডারদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে—এমন সম্ভাবনা কম। মূলত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এটি ব্যবহার করে; এর জন্য বিপুল কম্পিউটার-সম্পদ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রয়োজন।

পেশাদার বাজার অংশগ্রহণকারী ও নতুন ট্রেডাররা সাধারণত ঝামেলা এড়াতে HFT সিস্টেম ব্যবহার করেন না। বরং, তাঁরা বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনলাইন ফরেক্স ব্রোকারের সঙ্গে ন্যায্যভাবে ট্রেডিং করার সুযোগ বেছে নেন।

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।