“টার্মিনাল ভ্যালু” বলতে আমরা পূর্বাভাসের নির্দিষ্ট সময়সীমার পরেও ব্যবসাটির বর্তমান মূল্যকে বুঝি। TV নামেও পরিচিত টার্মিনাল ভ্যালু বিভিন্ন আর্থিক পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মধ্যে রয়েছে অবশিষ্ট আয়ের হিসাব, গর্ডন গ্রোথ মডেলসহ আরও কয়েকটি পদ্ধতি। এ ছাড়া, ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো বিশ্লেষণের সময় বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই TV ব্যবহার করেন।

এই নিবন্ধে আমরা টার্মিনাল ভ্যালুর সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করব। পাশাপাশি, কয়েকটি প্রধান সূত্র ব্যবহার করে এটি হিসাব করার বিভিন্ন পদ্ধতি পর্যালোচনা করব।
TV মূলত আর্থিক বিশ্লেষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। টার্মিনাল ভ্যালুর সংজ্ঞা বুঝতে, একে নির্দিষ্ট পূর্বাভাসের সময়সীমার বাইরের ভবিষ্যৎ নগদ প্রবাহের মোট মূল্য হিসেবে ভাবতে হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রচলিত মডেল ও আর্থিক পূর্বাভাস পদ্ধতিতে যেসব মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন, সেগুলো বিনিয়োগকারীদের হিসাবের আওতায় আনার সুযোগ দেওয়া।
সাধারণত, TV হিসাবের দুটি ভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। কোনটি বেছে নেবেন, তা নির্ভর করবে আপনি কী ধরনের বিশ্লেষণ করতে চান তার ওপর:



গাণিতিক তত্ত্বের সমর্থন থাকায় শিক্ষাবিদদের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই বেশি জনপ্রিয়। তবে, এটি নির্ভুল দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির হার নিশ্চিত করে না, ফলে পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা কিছুটা জটিল।
এবার, প্রতিটি পদ্ধতি আরও বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যাক এবং টার্মিনাল ভ্যালু হিসাব করতে সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জেনে নেওয়া যাক।
“এক্সিট মাল্টিপল পদ্ধতি” বলতে আমরা TV হিসাবের জন্য নিচের পদ্ধতিটি বুঝি:
TV = প্রজেক্টেড পরিসংখ্যান × 12-মাসের এক্সিট মাল্টিপল
প্রচলিত মাল্টিপল বলতে বিশেষজ্ঞরা সাধারণত EBIT, EBITDA এবং এন্টারপ্রাইজ ভ্যালুর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রচলিত মাল্টিপলকে বোঝেন। কোম্পানির আর্থিক মূল্য নিরূপণে এগুলো ব্যবহার করা হয়। আর প্রজেক্টেড পরিসংখ্যান বলতে আগের বছরের প্রাসঙ্গিক তথ্য ও পরিসংখ্যানকে বোঝায়।
মডেলটির পেছনের গাণিতিক তত্ত্বসহ একাডেমিক পদ্ধতিতে বেশি গুরুত্ব দিলে, নিচের হিসাবটি আপনার কাজে আসবে:
TV = (ফ্রি ক্যাশ ফ্লো × (1 + g)) / (WACC – g)
এই সূত্রে নিচের উপাদানগুলো রয়েছে: গত 12 মাসের FCF (ফ্রি ক্যাশ ফ্লো), ওয়েটেড অ্যাভারেজ কস্ট অব ক্যাপিটাল (WACC) এবং টেকসই (চিরস্থায়ী) প্রবৃদ্ধির হার (g)।
সাধারণত “g” উপাদানটি অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম হয়। এছাড়া, এটি মুদ্রাস্ফীতির হারের সমান—এই নির্দিষ্ট সূত্র ও পদ্ধতি ব্যবহার করার সময় বিষয়টি বিবেচনায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আগেই বলা হয়েছে, পারপেচুইটি গ্রোথ মডেল বেছে নিলে পদ্ধতিটির সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু নির্দিষ্ট সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, বিশেষ করে প্রবৃদ্ধি নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে। এ ছাড়া, TV হিসাবের ফলাফলও ভুল হতে পারে।
অন্যদিকে, এক্সিট মাল্টিপল পদ্ধতিরও কিছু নির্দিষ্ট অসুবিধা রয়েছে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অসুবিধাটি মাল্টিপলের পরিবর্তনশীল প্রকৃতির সীমাবদ্ধতা থেকে আসে। সময়ের সঙ্গে এগুলো পরিবর্তিত হতে পারে, ফলে হিসাবের মডেলটি প্রয়োগ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
কোন পদ্ধতি ব্যবহার করবেন, তা ঠিক করার আগে সব বিষয় সতর্কভাবে বিবেচনা করতে হবে। যেটিই বেছে নিন না কেন, কিছু স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা থাকা সত্ত্বেও গ্রহণযোগ্য ফল পেতে উভয় পদ্ধতিই বেশ কার্যকর হতে পারে।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।