ট্রেডিং চার্টে হারমোনিক প্যাটার্ন একটি জটিল ধরনের প্যাটার্ন। এতে জ্যামিতিক দামের গতিবিধির পাশাপাশি ফিবোনাচ্চি লেভেল ব্যবহার করা হয়। এর প্রতিষ্ঠাতার নাম অনুসারে, 1932 সালে হারমোনিক ট্রেডিংয়ের প্রচলন হয়। হ্যারল্ড ম্যাককিনলি গার্টলি একটি নতুন প্যাটার্ন তৈরি করেন, যা পরে স্টক ট্রেডিং নিয়ে তাঁর জনপ্রিয় একটি বইয়ে আরও বিশদে ব্যাখ্যা করা হয়।

এই জটিল টুলটি ব্যবহারের প্রধান কারণ হলো উচ্চ সম্ভাবনায় PRZ (সম্ভাব্য রিভার্সাল জোন) শনাক্ত করা, সম্ভাব্য ক্ষতির ঝুঁকি কমানো এবং শেষ পর্যন্ত ট্রেডে প্রবেশ করা। আগেই বলা হয়েছে, দামের সম্ভাব্য বাঁক নেওয়ার স্থান শনাক্ত করতে এই কৌশল ফিবোনাচ্চি সংখ্যা ও প্যাটার্নের ওপর ভিত্তি করে।
হারমোনিক প্যাটার্ন ব্যবহারের প্রধান কারণ হলো দামের রিভার্সাল আগে থেকে আঁচ করার সুযোগ। প্যাটার্নগুলো দামের ওঠানামার মাত্রা, স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরামিতির পার্থক্যের ভিত্তিতে দামের গতিবিধি অনুমান করতে সাহায্য করে। ডে ট্রেডাররা সঠিক পূর্বাভাস দিতে এসব বিষয় ব্যবহার করেন। শেয়ার, কারেন্সি পেয়ার, অপশনসহ বিভিন্ন ধরনের অ্যাসেটের ক্ষেত্রে হারমোনিক ট্রেডিং প্রযোজ্য।
এ ছাড়া, দামের রিভার্সাল শনাক্ত করার ক্ষেত্রে হারমোনিক প্যাটার্ন খুব নির্ভুল একটি টুল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এর কারণ, এগুলো দামের নির্দিষ্ট গতিবিধি শনাক্ত করতে এবং তার বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে পারে।



ট্রেডাররা বিভিন্ন ধরনের হরমোনিক প্যাটার্ন দেখতে পারেন। এর মধ্যে কিছু কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, আবার কিছু দামের গতিবিধি নির্ভুলভাবে অনুসরণ করতে পারেনি। এই লেখায় আমরা শুধু সেই প্রধান ধরনগুলো তুলে ধরব, যেগুলো বিভিন্ন অভিজ্ঞতার ট্রেডাররা প্রায়ই ব্যবহার করেন। এগুলোর প্রতিটিই সময়ের পরীক্ষায় টিকে গেছে।
এর প্রবর্তকের নামে নামকরণ করা এই প্যাটার্নটি তাঁর একটি বইয়ে প্রকাশিত হয়েছিল এবং ফিবোনাচ্চি লেভেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি মূলত বুলিশ ধরনের প্যাটার্ন, যা সাধারণত সংশোধনমূলক ওয়েভ শেষ হওয়ার সংকেত দেয়; এরপর দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

আগের প্যাটার্নের তুলনায় এই প্যাটার্নটি ভিন্নভাবে কাজ করে। এতে D পয়েন্টও থাকে। তবে এটি X পয়েন্টের বাইরেও প্রসারিত হয়। ফলে, বিয়ারিশ প্যাটার্ন কীভাবে দামকে নিচের দিকে ঠেলে দিতে পারে, তার একটি উদাহরণ আমরা পাই।

ট্রেডে প্রবেশের আগে দাম যে নিচের দিকে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হয়ে নিন। এন্ট্রি লেভেলের খুব বেশি ওপরে নয়, এমন জায়গায় স্টপ লস রাখাও ভালো উপায় হতে পারে।
এই হরমোনিক প্যাটার্নটি দেখতে কেমন, তা দেখে ট্রেডারদের বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। এর গঠন গার্টলি প্যাটার্নের মতো হলেও পরিমাপগুলো আলাদা।

বেশিরভাগ ট্রেডার এই প্যাটার্নটিকে সবচেয়ে নির্ভুল প্যাটার্নগুলোর একটি মনে করেন। রিভার্সাল শনাক্ত করার সময় কাছাকাছি অবস্থান নির্দেশ করতে এটি ফিবোনাচ্চি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। আবারও দেখা যায়, এর গঠন বাটারফ্লাই প্যাটার্নের মতো, কিন্তু পরিমাপগুলো সম্পূর্ণ আলাদা।

দামের গতিবিধির পূর্বাভাস দিতে হরমোনিক ট্রেডিং প্যাটার্ন বেশ নির্ভুল হতে পারে, তবে এগুলো নিখুঁত নয়। এ ছাড়া, কীভাবে প্যাটার্ন পড়তে হয় তা না জানলে কখনও কখনও এগুলো বিভ্রান্ত করতে পারে। অন্যদিকে, এই প্যাটার্নগুলোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাও রয়েছে।
হরমোনিক ট্রেডিংয়ের সুবিধা:
হারমোনিক ট্রেডিংয়ের অসুবিধা:
বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করলে, দামের গতিবিধি ও রিভার্সাল নির্ধারণে হারমোনিক প্যাটার্ন খুব কাজে লাগতে পারে। তবে ঝুঁকি কমাতে সিগন্যাল নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা দেখে নিতে হবে এবং স্টপ লস কাছাকাছি রাখতে হবে।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।