লগ আউট
Are you sure you want to exist?

নতুন ডে ট্রেডারদের যেসব গোপন ঝুঁকি সম্পর্কে জানা উচিত

দেখতে ডে ট্রেডিং খুব সহজ মনে হয়। তাই, শুরু থেকেই বিপুল রিটার্নের আশায় হাজার হাজার নতুন ডে ট্রেডার বাজারে প্রবেশ করেন। বাস্তবে, ডে ট্রেডিংয়ের কৌশলগুলো প্রয়োগ করা সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন। তাছাড়া, এই পদ্ধতি মাত্র কয়েক ধরনের বিনিয়োগকারীর জন্য উপযোগী।

None

বাজারে নতুনদের অজানা অনেক বিপদ লুকিয়ে আছে। কীভাবে হলো তা বুঝে ওঠার আগেই তাঁদের বেশিরভাগের অ্যাকাউন্ট প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় খালি হয়ে যায়। এই নিবন্ধে নতুন ডে ট্রেডারদের যেসব বড় ঝুঁকি ও অপ্রত্যাশিত বাধা মোকাবিলা করতে হবে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

ডে ট্রেডিংয়ে বিবেচনা করার মৌলিক বিষয়গুলো

গোপন ঝুঁকিগুলোর কথা বলে আপনাকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার আগে, ডে ট্রেডিং আপনার জন্য উপযোগী কি না তা ভালোভাবে বুঝতে কয়েকটি মৌলিক ধারণা ব্যাখ্যা করি। কৌশল বেছে নেওয়ার আগে নতুন বিনিয়োগকারীদের নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত:

  • যথেষ্ট অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল টুল ও বাজারের গতিবিধি সম্পর্কে গভীর ধারণা থাকলেই ডে ট্রেডিং সম্পদ গড়ে তোলার ভালো উপায় হতে পারে। নতুন ডে ট্রেডারদের 90%-এরও বেশি তাঁদের অর্থ হারান।
  • নতুনদের সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি ছাড়াই বাজারে প্রবেশ করা। সুপরিকল্পিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কৌশল না থাকলে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • সফল হতে হলে আপনাকে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করতে হবে এবং নানা বাজার পরিস্থিতিতে সেগুলো পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এতে আপনার পদ্ধতির শক্তি ও দুর্বলতা বুঝতে পারবেন।
  • বাজারের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বেছে নেওয়া কৌশল প্রয়োগ করতে ডে ট্রেডিংয়ে আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলা দরকার।
ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

এবার, ডে ট্রেডিংয়ের কৌশল বেছে নিলে নতুন বিনিয়োগকারীদের কী কী বাধার মুখে পড়তে হতে পারে, তা একটু বিস্তারিতভাবে দেখি।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কোনো কৌশল নেই

ন্যূনতম পর্যায়ের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার টুল ছাড়া ডে ট্রেডিং শুরু করাই সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ, বেশিরভাগ নতুন ট্রেডার বাজার ও সম্ভাব্য রিটার্ন নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী থাকেন। ফলে, তাঁরা প্রায়ই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জরুরি পদক্ষেপগুলো উপেক্ষা করেন। একবারে সব হারানোর আশঙ্কা কমাতে আপনি অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ের বিকল্পগুলো ব্যবহার করতে পারেন:

  • স্টপ লস অর্ডার – প্রতিটি ট্রেডের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করুন এবং আপনার ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের 1%-এর বেশি ক্ষতি এড়াতে স্টপ লস অর্ডার দিন।
  • দৈনিক সীমা – প্রতিদিনের ক্ষতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার একটি কার্যকর উপায়। সাধারণত, অভিজ্ঞ ট্রেডাররা 3%-এর সীমা ব্যবহার করেন। অর্থাৎ, অ্যাকাউন্টে থাকা মূলধনের 3%-এর বেশি ক্ষতি থেকে তাঁরা অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখেন।

ভুলভাবে সাজানো কৌশল

আপনার ডে ট্রেডিং কৌশলটি কতটা ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং কতটা সুসংগঠিত, তার ওপর সাফল্য নির্ভর করে। সঠিকভাবে কনফিগার ও পরীক্ষা না করা কৌশল ব্যবহার করলে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক নতুন ট্রেডার আরেকটি ভুল করেন—আসল টাকা নিয়ে সরাসরি বাজারে নেমে পড়েন।

সবচেয়ে ভালো হলো, সময় নিয়ে বিভিন্ন কৌশল চেষ্টা করে দেখা। ভার্চুয়াল অর্থে ট্রেড করার সুযোগ দেয়—এমন বিনামূল্যের ট্রেডিং সিমুলেটর ব্যবহার করতে পারেন। প্রথম মুনাফা করার আগে অপেক্ষা করতে পারলে, অন্তত আপনার MT4 ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে থাকা ব্যাকটেস্টিং ফিচারটি ব্যবহার করুন।

এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো, বেছে নেওয়া কৌশলটি বাজারের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ করে তা যাচাই করা। দাম অপ্রত্যাশিতভাবে নড়াচড়া করতে পারে এবং বেশিরভাগ সময় তা আপনার বিপক্ষে যেতে পারে। তাই সম্ভাব্য সব ফলাফল ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আপনার কৌশলটি ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে হবে।

ডে ট্রেডিং সফটওয়্যার

প্রযুক্তিগত সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয়। ডে ট্রেডিংয়ে বেশিরভাগ সময় একসঙ্গে অনেকগুলো অর্ডার সামলাতে হয়, তাই নির্ভরযোগ্য ডে ট্রেডিং সফটওয়্যার থাকা জরুরি। এ ছাড়া, আপনার কম্পিউটার ক্র্যাশ করতে পারে বা Wi-Fi সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

প্রযুক্তিগত সমস্যা কখন হবে, তা কেউই আগে থেকে বলতে পারে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্টপ-লস অর্ডার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ত্রুটি সামলাতেও কাজে আসতে পারে। প্রতিটি ট্রেডে স্টপ লস সেট করতে ভুলবেন না। এ ধরনের সমস্যা যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের জন্য আপনার ব্রোকারের পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত সহায়তা আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করুন। পাশাপাশি, নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল সার্ভার সংযোগ আছে—এমন ব্রোকার বেছে নেওয়ার কথা মনে রাখুন।

সারসংক্ষেপ

শুরু করার জন্য ডে ট্রেডিং সবচেয়ে সহজ কৌশল নয়। বেশিরভাগ নতুন ট্রেডার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অর্থ হারান। তবে সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে এই কৌশল বেশ লাভজনক হতে পারে। সাফল্যের পথে কী কী বাধার মুখে পড়তে পারেন, তা ভেবে দেখুন এবং সেগুলো এড়ানোর উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।

প্রতিটি নতুন ট্রেড খোলার সময় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপ নিতে হবে। স্টপ লস, টেক প্রফিট এবং অন্যান্য ধরনের অর্ডার এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। পাশাপাশি, আপনার ব্যবহৃত কৌশলটি বাজারের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।