ফ্লোটিং স্টক বলতে কোনো নির্দিষ্ট স্টকে কারও মালিকানাধীন শেয়ারের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যাকে বোঝায়। আপনার ফ্লোটিং স্টকের পরিমাণ বেশি হলে এর অর্থ হলো আপনার শেয়ারের সংখ্যা বেশি, আর কম হলে শেয়ারের সংখ্যাও কম। এই অ্যাসেটের হিসাব করতে কোম্পানির ইস্যু করা মোট বকেয়া শেয়ার থেকে সীমাবদ্ধ শেয়ার এবং ঘনিষ্ঠভাবে মালিকানাধীন শেয়ার বাদ দিতে হয়।

এই নিবন্ধে আমরা ফ্লোটিং স্টকের সংজ্ঞা দেব এবং এটি কীভাবে কাজ করে তা ব্যাখ্যা করব।
আগেই বলা হয়েছে, এই অ্যাসেট দুটি প্রধান উপাদানের ওপর নির্ভরশীল:
সাধারণত, ফ্লোটিং স্টকের পরিমাণ কম হলে ভোলাটিলিটি বেশি হয়, কারণ জনসাধারণের জন্য কম শেয়ার পাওয়া যায়। অন্য কথায়, এই অ্যাসেটগুলো খুঁজে বের করা ও কেনা কঠিন। ফলে, বিনিয়োগকারীদের স্প্রেড বেশি হতে পারে এবং ট্রেডিং ভলিউম কম হতে পারে।
সাধারণত, ফ্লোটিং শেয়ারের সংখ্যা সব সময় বকেয়া শেয়ারের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। একটি উদাহরণ দেখা যাক। ধরুন, একটি কোম্পানির 50 মিলিয়ন শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে 35 মিলিয়ন শেয়ার বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। 5 মিলিয়ন শেয়ার কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে। 2 মিলিয়ন শেয়ার ESOP-এর জন্য বরাদ্দ। বাকি 8 মিলিয়ন শেয়ার হলো ফ্লোটিং শেয়ার, যা কোম্পানির ইস্যু করা মোট বকেয়া শেয়ারের মাত্র 16%।



তবে এর মানে এই নয় যে প্রয়োজন হলে কোনো কোম্পানি ফ্লোটিং শেয়ারের সংখ্যা বাড়াতে পারে না। নানা কারণে এই সংখ্যা বাড়তে পারে:
এই ধরনের সম্পদের সংখ্যা থেকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা জানতে পারেন, কেনার জন্য প্রকৃতপক্ষে কত শেয়ার উপলভ্য রয়েছে। অন্য কথায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কত শেয়ার কিনতে বা বিক্রি করতে পারেন, তা বোঝা যায়। ফ্লোট কম থাকলে সক্রিয় ট্রেডিং হয়। ফ্লোট সীমিত হলে ট্রেডারদের জন্য বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সেরা অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিনিয়োগকারীদের মনে রাখা উচিত, সম্পদটি কীভাবে ট্রেড করা হচ্ছে, সে জন্য কোম্পানি কখনো দায়ী নয়। এই বিষয়টি মূলত সেকেন্ডারি মার্কেটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিনিয়োগকারীরা এই শেয়ারগুলো শর্ট করুন, কিনুন বা বিক্রি করুন—তাতে কিছু যায় আসে না। এসব লেনদেনের কোনোটিই ফ্লোটকে প্রভাবিত করবে না। ফ্লোটিং শেয়ার নিয়ে আপনি যা-ই করুন না কেন, ট্রেডিংয়ের জন্য উপলভ্য শেয়ারের সংখ্যা সব সময় একই থাকে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন শেয়ারের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো বিনিয়োগকারীই সম্পদটি যতদিন সম্ভব ধরে রাখতে বাধ্য নন। একই সঙ্গে, আপনি নির্দিষ্ট সংকেত তৈরি করতে পারেন এবং পরবর্তী বাজারের গতিবিধি অনুমান করতে পরিস্থিতিটি কাজে লাগাতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, সম্পদের দাম কমার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানার অংশ কমে গেলে, এর অর্থ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এই শেয়ারগুলো ছেড়ে দিতে আগ্রহী, অথবা সেগুলো বিক্রি করে দিচ্ছেন। প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানা বাড়লে, সম্পদটি জমা করার প্রবণতাও দেখা যায়।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।