Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

বৃহস্পতিবারের শুরুতে ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কম ছিল। ফেডের কঠোর অবস্থান বজায় রেখে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত এবং চীন, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা প্রতিক্রিয়া দেখান। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সম্ভাব্য শাটডাউন এবং ঋণসীমা নিয়ে আলোচনার উদ্বেগও বাজারের মনোভাবকে চাপে রেখেছে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (SNB), ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (BoE) ও ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) মুদ্রানীতির সিদ্ধান্তের আগে এই চাপ আরও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের PMI-এর প্রাথমিক হিসাবও নজরে রয়েছে।
এর ফলে, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড ও মার্কিন ডলার কয়েক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে শক্ত অবস্থানে রয়েছে, অন্যদিকে পণ্য ও অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলো দুর্বল রয়েছে।
ফলে, ঝুঁকির সূচক হিসেবে AUDUSD-র অবস্থানের সঙ্গে শক্তিশালী USD যুক্ত হয়ে এই জোড়াটিকে G10-এর সবচেয়ে বড় দরপতনকারী করেছে, আর USDJPY-র স্পষ্ট দিকনির্দেশ নেই। উল্লেখ্য, মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে SNB নীতিগত কঠোরতার পক্ষের সদস্যদের আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর USDCHF-তে জোরালো উত্থান হয়েছে।
তা সত্ত্বেও, টানা তৃতীয় দিনের মতো সোনা ও অপরিশোধিত তেলের ওপর চাপ রয়েছে। অন্যদিকে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলো ওয়াল স্ট্রিটের বেঞ্চমার্ক সূচকগুলোর পতনের ধারায় নেমেছে।
এ ছাড়া, শক্তিশালী মার্কিন ডলারের প্রভাব এড়াতে পারেনি BTCUSD ও ETHUSD। এই খাতে আরও দুর্দশার আশঙ্কাও রয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



Fed, ECB এবং অন্যান্য প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার দীর্ঘদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কার সঙ্গে চীনা নাগরিকদের মধ্যে দেশীয় ভোগনির্ভর পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রচেষ্টা নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষও সাম্প্রতিক সময়ে বাজারের মনোভাবকে চাপে ফেলেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঋণসীমা বাড়ানো নিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মতবিরোধ। অক্টোবরের শুরুর মধ্যে ঋণসীমা না বাড়ালে সরকার অচল হয়ে পড়তে পারে এবং বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির কার্যক্রম স্থবির হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, হতাশাজনক অস্ট্রেলীয় তথ্য, RBA-র ডোভিশ অবস্থান এবং ঝুঁকির সূচক হিসেবে AUDUSD-এর ভূমিকা—চীনের সমস্যা মিলিয়ে AUDUSD-তে চাপ সৃষ্টি করছে। এদিকে, BoE-র সুদের হারের সিদ্ধান্তের আগে GBPUSD ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। SNB-র ডোভিশ বিরতির পর USDCHF বাড়ছে, আর ECB-র নীতিনির্ধারকদের হকিশ মন্তব্যের পক্ষে যথেষ্ট কারণ দেখাতে পারছে না EURUSD। পাশাপাশি, বাড়তি ইয়িল্ডের সঙ্গে USDJPY এগোলেও, বহু মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইয়েনকে রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা এই পেয়ারের ঊর্ধ্বমুখী গতি কমিয়ে দিচ্ছে—শুক্রবারের BoJ-এর সিদ্ধান্তের কথাও মাথায় রাখতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের SEC-এর সঙ্গে শিল্পখাতের সংশ্লিষ্টদের বিরোধ চলতে থাকায় ক্রিপ্টো বাজারে অস্থিরতা রয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তারা খুব একটা সফল হয়নি, যা ভবিষ্যতে আরও কঠিন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। এদিকে বড় বিনিয়োগকারীরা পজিশন বন্ধ করছেন, আর অপশনস মার্কেটের সংকেতও সম্প্রতি নিম্নমুখী। ফলে BTCUSD ও ETHUSD-এর বিক্রেতারা আশাবাদী রয়েছেন।
ফেড ও SNB-র মুদ্রানীতির সিদ্ধান্তের পর আজ বাজারের অংশগ্রহণকারীদের নজর BoE-র দিকে, পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও আবাসন খাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সারির ডেটার দিকেও। যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে, BoE সুদের হার বাড়ানো হঠাৎ স্থগিত করলে GBPUSD কয়েক মাসের মধ্যে নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো ডেটা US Dollar-কে আরও শক্তিশালী থাকতে সাহায্য করতে পারে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!