
সোমবারের অনিশ্চিত বাজার পরিস্থিতিতে AUDUSD ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে আগের দিনের পুনরুদ্ধার অব্যাহত রেখেছে। ঝুঁকির সূচক হিসেবে বিবেচিত এই পেয়ারটি বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ওপর একাধিক চাপ থাকা সত্ত্বেও সামান্য বেড়েছে, যার প্রধান উৎস চীন ও উত্তর কোরিয়া। এর কারণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ট্রেডারদের অনুপস্থিতি।
অন্যদিকে, ছয় দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো Brent oil-এর দাম বেড়েছে। বাজারে দর একত্রিত হওয়ার পরিস্থিতিতে Gold-এর দামও সামান্য বেড়েছে। তবে লক্ষণীয়, US stock futures-এ সামান্য পতন হয়েছে, অন্যদিকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলো মিশ্রভাবে লেনদেন করছে।
অন্যান্য প্রধান মুদ্রা ও কমোডিটির বেশিরভাগের দাম আগের দিনের ক্লোজিংয়ের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে, গত সপ্তাহে কয়েক মাসের সর্বোচ্চ যে স্তরগুলো দেখা গিয়েছিল, তার কাছাকাছি ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোতে সামান্য উত্থান দেখা যাচ্ছে।
মূল সম্পদগুলোর সাম্প্রতিক ওঠানামা নিচে তুলে ধরা হলো:



যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ছুটির পাশাপাশি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের হালকা সূচিও সোমবারের শুরুর দিকে বাজারের নড়াচড়া সীমিত করেছে। ফলে US Dollar সাম্প্রতিক লাভের কিছুটা ছেড়ে দিয়েছে এবং প্রধান মুদ্রাগুলোকে ধীরে ধীরে বাড়তে দিয়েছে।
তবে, চীনের পিপলস ব্যাংকের (PBOC) নিষ্ক্রিয়তা চীন থেকে আরও নীতিগত শিথিলতার আশাকে জোরালো করেছে; একই সময়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনাও যুক্ত হয়েছে।
মিশ্র তথ্য-উপাত্ত সত্ত্বেও ফেডের উদ্বেগ মোকাবিলায় রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (RBA) তাদের hawkish অবস্থান ধরে রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশা AUDUSD-কে সহায়তা করেছে বলে মনে হয়। চীনের আরও প্রণোদনা দেওয়ার প্রত্যাশাও এতে ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন ডলারের দরপতন এবং ওয়াশিংটনে ট্রেডারদের অনুপস্থিতির মধ্যে সোনা তার প্রচলিত নিরাপদ আশ্রয়স্থলের মর্যাদা থেকে উপকৃত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সহজে অর্থায়নের ওপর জোর দেওয়ার সম্ভাবনা থাকায় চীন থেকে অতিরিক্ত চাহিদার আশাও ধাতুটির সংশোধনমূলক দরবৃদ্ধিকে আরও জোরালো করতে পারে।
এ ছাড়া, এপ্রিল মাসে অবসর নেওয়ার আগে সহজ মুদ্রানীতি রক্ষায় ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) গভর্নর হারুহিকো কুরোদা শেষবারের মতো সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করতে পারেন—এমন আলোচনা বাজারের মনোভাবকে সহায়তা করেছে এবং US Dollar-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মনে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, BTCUSD ও ETHUSD গত তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সাপ্তাহিক লাভ ধরে রেখেছে এবং এরপরও সামান্য ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। FTX-সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন ট্রেডাররা। এর মধ্যে ক্রিপ্টোর সম্প্রসারণ সীমিত করতে পারে—এমন বড় কোনো নিয়ন্ত্রক ঘোষণাও আসেনি।
প্রধান বাজারগুলো বন্ধ এবং অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারও হালকা থাকায়, সোমবার বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে লেনদেন সম্ভবত নিরুত্তাপ থাকবে। তা সত্ত্বেও, বুধবারের FOMC মিনিটস এবং Q4-এর US GDP-র দ্বিতীয় হিসাব প্রকাশের আগে মার্কিন ডলারের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
আপনার ট্রেডিংয়ে ভাগ্য সহায় হোক!