
মিশ্র খবরের মধ্যে ট্রেজারি বন্ডের ইল্ডে BOJ-পরবর্তী পতন অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও, দুর্বল ডেটা ফেডারেল রিজার্ভ কর্মকর্তাদের হকিশ মন্তব্যকে সমর্থন না করায় মার্কিন ডলার সাপ্তাহিক লাভের কিছুটা হারিয়েছে।
মন্দার আশঙ্কা আবার আলোচনায় আসায় তেলের দামে চাপ পড়েছে, তবে USD দুর্বল হওয়ায় সোনার দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়ানো গতি পেয়েছে। এদিকে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারগুলো মিশ্র লেনদেন করেছে, তবে অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণে US স্টক ফিউচার ওয়াল স্ট্রিটের নেতিবাচক সমাপ্তির ধারাই অনুসরণ করেছে।
ঝুঁকির সূচক হিসেবে AUDUSD-এর অবস্থান এবং অস্ট্রেলিয়ার হতাশাজনক কর্মসংস্থান তথ্য—দুটিই বেয়ারদের পক্ষে গেছে। অন্যদিকে, জাপানের রপ্তানি কমলেও USDJPY বিপরীত অবস্থানে ছিল। একই ধারায়, যুক্তরাজ্যের তুলনামূলক দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদন ও মূল্যস্ফীতির তথ্যের সঙ্গে শ্রমিকদের ধর্মঘট-সংক্রান্ত উদ্বেগ যুক্ত হওয়ায় GBPUSD-তে সামান্য লোকসান দেখা গেছে।
এদিকে, দুর্বল মার্কিন ডলারের সঙ্গে 2023 সালের ক্রিপ্টো বাজার নিয়ে আশাবাদ যুক্ত হওয়ায় BTCUSD ও ETHUSD ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় ও প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (PPI)-এর হতাশাজনক তথ্য বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এর সঙ্গে ট্রেজারি বন্ডের কম ইল্ডও ডলারের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে USD Index এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন দেখিয়েছে এবং টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থেমেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ডিসেম্বরের কর্মসংস্থান পরিবর্তন ও বেকারত্বের হার AUDUSD ট্রেডারদের হতাশ করেছে। অন্যদিকে, বন্ডের ইল্ড কমে যাওয়ায় এবং গভর্নর হারুহিকো কুরোদা এপ্রিলে অবসর নেওয়ার আগে ব্যাংক অব জাপানের নীতিতে কড়া অবস্থানের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না—এমন আশায় USDJPY-এর দরপতন হয়েছে। এদিকে, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে GBPUSD-ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। তবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বিষয়ে বাজারের হকিশ অবস্থান বাস্তবে রূপ নেয়নি।
বাজারের অনিশ্চয়তা এবং USD-এর দুর্বলতা ট্রেডারদের চিরাচরিত নিরাপদ আশ্রয়—সোনা ও JPY-এর দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করায় সোনার দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে, চীনের চাহিদা নিয়ে আশাবাদ যুক্তরাষ্ট্রে মন্দার উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতে না পারায় ব্রেন্ট তেলের দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে।
তবে NFT-এর আরও প্রবৃদ্ধির আশা এবং ক্রিপ্টোতে সবচেয়ে খারাপ সময় পেরিয়ে গেছে—এমন স্বস্তি BTCUSD ও ETHUSD-এর সাম্প্রতিক পুনরুদ্ধারকে জোর দিচ্ছে।
ECB প্রেসিডেন্ট লাগার্দের বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মন্তব্যের মূল দিক উঠে আসবে এবং তা ট্রেডারদের আগ্রহ ধরে রাখতে পারে। এর সঙ্গে থাকবে মাঝারি গুরুত্বের US ডেটা। তবে বড় কোনো পরিসংখ্যান বা ইভেন্ট না থাকলে বাজার সাম্প্রতিক মিশ্র গতিধারা ধরে রাখতে পারে এবং USD-এর ওপর চাপ পড়তে পারে। অন্যদিকে, মন্দার আলোচনা চলার মধ্যে ওয়াল স্ট্রিটের বাজার বন্ধ হওয়ার সময় এবং ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ডের গতিবিধিও নজরে রাখা জরুরি হবে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!