Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

সোমবার দিনের শুরুতে বাজারে কনসোলিডেশন দেখা যায়। ট্রেডাররা আগের দিনের ওঠানামার কিছুটা সমন্বয় করে মার্কিন ডলার ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এদিকে, সতর্ক বাজার পরিস্থিতিতে এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে মার্কিন ডলারের দরপতন আরও বেড়েছে। এই সপ্তাহে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান, খুচরা বিক্রি এবং মূল্যস্ফীতিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা প্রকাশ হওয়ার কথা। উল্লেখ্য, চীনকে ঘিরে মিশ্র খবর এবং ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে বাজারের উদ্বেগের মধ্যে ট্রেডিং ফ্লোরে আশাবাদ এখনও অনুপস্থিত।
ফলে, কমোডিটি ও অস্ট্রেলিয়ান-নিউজিল্যান্ড ডলার আগের সপ্তাহের লোকসান পুষিয়ে নিচ্ছে। মিশ্র সংকেতের মধ্যে ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকায় USDJPY সুবিধা পাচ্ছে।
EURUSD, USDCAD ও USDCHF-এর দিকনির্দেশনা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (BoE) কর্মকর্তারা ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্পর্কে বাজারের ডোভিশ মনোভাব ঠেকানোর চেষ্টা করার পর GBPUSD কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া, যুক্তরাজ্যের তথ্য দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নতুন করে দরপতনের আগে পাউন্ডের ট্রেডাররা পরিসংখ্যান প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করছেন।
সোনার দাম 200-SMA-এর কাছাকাছি রয়েছে, আর অপরিশোধিত তেলের দাম আগের দিনের পতন বাড়িয়ে চার মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট সামান্য উত্থান নিয়ে লেনদেন শেষ করেছে, তবে US স্টক ফিউচার সামান্য কমেছে এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারও কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে।
স্পট ETF নিয়ে আশাবাদ কমে যাওয়ায়, গত সপ্তাহে কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে, শুক্রবার প্রকাশিত University of Michigan-এর (UoM) নভেম্বরের Consumer Sentiment Index-এর হতাশাজনক পরিসংখ্যান US Dollar Index (DXY)-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করার পর এই পরিবর্তন দেখা যায়। তবে Fed চেয়ার Jerome Powell-এর হকিশ মন্তব্য—প্রয়োজন হলে আরও সুদের হার বাড়ানোর প্রস্তুতির ইঙ্গিত এবং সুদের হার কমানোর আলোচনা পিছিয়ে দেওয়া—ডলারের ক্রেতাদের পক্ষে গেছে এবং GBPUSD-তে বেয়ারিশ ট্রেডারদের আশাবাদী রেখেছে।
তবে, গত সপ্তাহে চীনের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে, আর প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া ঠেকাতে People’s Bank of China (PBoC)-এর আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে মিশ্র বার্তা বাজারে ড্রাগন জাতির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিল্পোৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বেইজিংয়ের অবস্থানের কারণে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগও বিনিয়োগকারীদের US Dollar-এর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এর ফলে GBPUSD-এর দামে নিম্নমুখী চাপ পড়ছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে Bank of England (BoE)-এর একাধিক কর্মকর্তা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁরা নীতিতে পরিবর্তনের দাবির পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতি নিয়ে হতাশাবাদী মনোভাবও খণ্ডন করার চেষ্টা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক মৌলিক উপাদানগুলো এসব বক্তব্যের বিপরীতে গেছে। তাই পাউন্ড বিক্রেতারা এখনও আশাবাদী।
দিনের শুরুতে, গত সপ্তাহের সুদহার বৃদ্ধি AUDUSD-এর ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর RBA কর্মকর্তারা তাদের কড়াকড়িমুখী অবস্থান সমর্থনের চেষ্টা করেন। পরে AUDUSD ক্রেতারা ঝুঁকি নেওয়ার অনুকূল মনোভাবে যোগ দেন, যা অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দর বাড়াতে সহায়তা করে। তবে, এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির তথ্য, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং Fed/BoE কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রকাশের আগে অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন কোনো বড় ঘটনা না থাকায় এবং উদ্বেগ বাড়ায়, ট্রেডারদের জন্য আকর্ষণ কম।
গুরুত্বপূর্ণ কোনো ডেটা বা ঘটনা না থাকলে মার্কিন ডলারের বুলরা কিছুটা বিরতি নিতে পারে এবং সপ্তাহের শুরুতে বাজারের মুভমেন্টে যে স্থিতাবস্থা দেখা গেছে, তা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবে কয়েকজন কেন্দ্রীয় ব্যাংকারের জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁদের বক্তব্যে ফেডের কড়া অবস্থানের ঝোঁক আবার জোরালো হতে পারে এবং মার্কিন ডলারকে চাঙা করতে পারে। সবকিছুর মধ্যে, স্পষ্ট দিকনির্দেশনার জন্য এ সপ্তাহের মার্কিন মূল্যস্ফীতির ডেটার দিকে নজর থাকবে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!