
সেপ্টেম্বরের FOMC বৈঠকে US Federal Reserve-এর সুদের হার 50 বেসিস পয়েন্ট কমানোর প্রতিক্রিয়ায় বাজারের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ট্রেডিং মনোভাব কিছুটা ইতিবাচক। FOMC-এর বিবৃতি এবং Fed চেয়ার জেরোম পাওয়েলের মন্তব্য এই আশাবাদকে সমর্থন করছে। সেগুলোতে সামনে আরও সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এবং মুদ্রাস্ফীতির গতি কমার ইঙ্গিত রয়েছে। সুদের হারের ফিউচার অনুযায়ী, নভেম্বরে 25 বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমার সম্ভাবনা 62% এবং ডিসেম্বরে 50 বেসিস পয়েন্ট কমার সম্ভাবনা 95%। তবে Fed-এর ডট-প্লটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, 2024 সালের শেষ নাগাদ মোট 100 বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমতে পারে।
Fed-এর 0.50% সুদের হার কমানো এবং বেশিরভাগ মন্তব্যে নীতিগতভাবে শিথিলতার ইঙ্গিত প্রথমে US Dollar Index (DXY)-কে 14 মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনে, তবে পরে এটি ঘুরে দাঁড়ায়। বৃহস্পতিবারের শুরুতে, বুধবারের বাজার বন্ধের পর US Dollar স্থিতিশীল হয় এবং কিছুটা গতি পায়। বাজার Fed-এর সুদের হার কমানোর বিষয়টি আগেই দামে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ফলে গতি কম থাকাকালীন ডলার তার ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়।
এই স্থিতিশীলতার পাশাপাশি, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকি নিয়ে নেতিবাচক খবরও US Dollar-কে সমর্থন জোগাচ্ছে। সম্প্রতি, চীন 9টি মার্কিন কোম্পানির সম্পদ জব্দ করেছে। অন্যদিকে, শান্তি আলোচনা ঝুঁকিতে পড়লেও ইসরায়েল হামাস ও ইরানের সমর্থনপুষ্ট বাহিনীকে নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ফেড সুদের হার কমানোর পর EURUSD মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে ECB-র নীতিনির্ধারক Francois Villeroy de Galhau ECB আরও সুদের হার কমাতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়ায় দিন শেষে সামান্য লাভে বন্ধ হয়। একইভাবে, USDJPY-তে সামান্য লোকসান হয়। জাপান সর্বশেষ প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক মূল্যায়ন অপরিবর্তিত রাখায়, ব্যাংক অব জাপান ও ফেডের নীতিগত পার্থক্য থেকে মুদ্রাটি খুব বেশি সুবিধা নিতে পারেনি।
এদিকে, GBPUSD 2022 সালের শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে এবং দিন শেষে আরও বেশি লাভে বন্ধ হয়েছে। যুক্তরাজ্যের CPI-এর বেশিরভাগ তথ্য ইতিবাচক হওয়া এবং সাম্প্রতিক সুদের হার কমানোর পর ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি অপরিবর্তিত রাখার প্রত্যাশা এতে সহায়তা করেছে।
G10 মুদ্রাগুলোর মধ্যে US Dollar-এর বিপরীতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে New Zealand Dollar (NZD)। Australian Dollar (AUD)-ও শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। এর পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে Q2-তে New Zealand-এর GDP সংকোচন প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং Australia-তে Employment Change প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়া।
এদিকে, কানাডার অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য অপরিশোধিত তেলের দাম দুর্বল থাকায় এবং Bank of Canada (BoC) থেকে ডোভিশ মন্তব্য আসায় USDCAD টানা পাঁচ দিন বেড়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের শুরুর দিকে এই লুনি জুটির ঊর্ধ্বমুখী গতি থেমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দুর্বলতা থেকে সুবিধা নিতে পারেনি অপরিশোধিত তেল। বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ এবং OPEC+-এর সরবরাহ বাড়ার মধ্যে দাম সামান্য সময়ের জন্যই ঘুরে দাঁড়ায়। এদিকে, সাপ্তাহিক মার্কিন অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমলেও বাজারে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।



FOMC-এর ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই সোনার দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ $2,600-এ পৌঁছায়। তবে বুধবারের শেষ নাগাদ টানা দুই দিন দাম কমে। বৃহস্পতিবারের শুরুতে সোনার দাম আবার বাড়ে এবং আগের দিনের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। Fed-এর 50 বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমানোর পর মার্কিন ডলার পুনরুদ্ধার করলেও এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। বাজারে Fed-এর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা, সম্ভাব্য সুদের হার কমানো, বাণিজ্য উত্তেজনা এবং ভূরাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে এই সর্বশেষ দরবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের 0.50% সুদের হার কমানো এবং ভবিষ্যতে হার আরও কমার আশাবাদে Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD) টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়েছে।
সামনে BoE ও BoJ-এর মুদ্রানীতির ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাঝারি গুরুত্বের অর্থনৈতিক তথ্য মোমেন্টাম ট্রেডারদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকবে। তবে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের প্রত্যাশা নেই, তাই বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফেডের সিদ্ধান্তের পর হওয়া কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে মার্কিন ডলার। এতে কমোডিটি ও অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলো প্রভাবিত হতে পারে, আর GBPUSD ও USDJPY-তে সতর্কতার লক্ষণ দেখা যেতে পারে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!