
সপ্তাহের শুরুতে অস্থিরতার পর বাজার এখন শান্ত রয়েছে। ডেটা ছিল দুর্বল এবং বড় কোনো নতুন খবরও আসেনি। চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য চুক্তির সমালোচনা করেছে। এতে ব্রিটিশ চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এদিকে, ট্রাম্প নিজের চুক্তি সম্পাদনের দক্ষতার প্রশংসা করেছেন এবং ফেডকে আরও সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যা চীনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তাঁর আশাবাদ প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির আগে ইরান দৃঢ় নিশ্চয়তা চেয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।
অর্থনৈতিক তথ্যের দিক থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের CPI প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় Fed-এর সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা বেড়েছে, যা ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। EU-এর মিশ্র সংকেত সত্ত্বেও EURUSD বেড়েছে, আর যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থানের হতাশাজনক তথ্য সত্ত্বেও GBPUSD ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এছাড়া, PPI দুর্বল থাকলেও BoJ-এর সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশায় USDJPY কমেছে। বাণিজ্য নিয়ে আশাবাদ ও স্থানীয় তথ্যের জেরে অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ড ডলার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ক্রুড অয়েলের টানা 4 দিনের ঊর্ধ্বগতি থেমেছে, তবে USDCAD এখনও চাপে রয়েছে। অন্যদিকে, সোনার দাম কমেছে এবং ক্রিপ্টোতে সামান্য লোকসান দেখা গেছে। শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা থাকলেও, বাজার নতুন প্রভাবকের অপেক্ষায় থাকায় বন্ডের ইল্ড শক্তিশালী ছিল।
দুর্বল মার্কিন ডলার ও মিশ্র বাজারের সমর্থনে EURUSD তিন সপ্তাহের মধ্যে এক দিনে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এর পেছনে ছিল দুর্বল ZEW তথ্য এবং ECB-র সতর্ক মন্তব্য। তবে, EU-এর অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংশয় এবং যুক্তরাষ্ট্র-EU বাণিজ্য চুক্তি না হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় এই কারেন্সি পেয়ারটি স্থিতিশীল রয়েছে। সাম্প্রতিক EU-এর তথ্য ECB-র সম্ভাব্য সুদের হার কমানোর পক্ষে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা এখনও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে বাধা হয়ে আছে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের ইতিবাচক অর্থনৈতিক তথ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ এবং ডলারের দুর্বলতা GBPUSD-কে সমর্থন জোগাচ্ছে। তবে, তথ্য প্রকাশের সূচি হালকা এবং বাজারে সতর্ক মনোভাব থাকায়, BoE কর্মকর্তাদের—গভর্নর বেইলিসহ—বক্তব্যের অপেক্ষায় ট্রেডাররা থাকায় দরবৃদ্ধি সীমিত রয়েছে।
G10 মুদ্রাগুলোর মধ্যে USDJPY আলাদা করে নজর কেড়েছে। ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পতন বাড়িয়ে দিনের লেনদেনে এটি 0.25% কমেছে। PPI তথ্য দুর্বল হলেও এই পতন ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা এবং Bank of Japan-এর সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশার প্রতিফলন। তবে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ট্রাম্পকে ঘিরে আশাবাদ আরও দরপতন সীমিত করছে—বিশেষ করে অর্থনৈতিক সূচির ব্যস্ততা কম থাকায়।
বুধবারের শুরুতে অস্ট্রেলীয়, নিউজিল্যান্ড ও কানাডীয় ডলারের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তির আশা এবং দুর্বল মার্কিন ডলারের কারণে মুদ্রাগুলোর দর বেড়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী মজুরি-সংক্রান্ত তথ্য এবং দেশটির ব্যাংকগুলো সম্পর্কে ফিচের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও AUDUSD-কে ঊর্ধ্বমুখী করতে পারেনি। খুচরা বিক্রির আশাব্যঞ্জক তথ্য সত্ত্বেও NZDUSD-র দরও ছিল স্থির। তেলের দাম কমায় আগের দরপতনের প্রভাব সামলে USDCAD স্থিতিশীল হয়েছে। এখন ট্রেডারদের নজর আসন্ন কানাডীয় আবাসন-সংক্রান্ত তথ্যের দিকে।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং মার্কিন-চীন বাণিজ্য চুক্তির পর চীনের চাহিদা নিয়ে আশাবাদের কারণে মঙ্গলবারের দরবৃদ্ধির পর বুধবারের শুরুতে সোনা ও অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। নতুন তথ্য বা খবর তেমন না থাকায় সাম্প্রতিক বাণিজ্য-আশাবাদের স্থায়িত্ব নিয়ে বাজার নতুন করে মূল্যায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মজুত বাড়ায় তেলের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে (API-এর তথ্য অনুযায়ী)। এতে টানা চার দিনের দরবৃদ্ধি থেমেছে এবং তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তর থেকে দাম নেমেছে। এদিকে সোনার দাম কমে $3,230-এর সাপোর্টে এসেছে।



দুই দিনের দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়ালেও Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর দাম সামান্য কমেছে। এর আগে দুর্বল মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির ডেটা এবং Coinbase-এর S&P 500-এ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আশাবাদ এই উত্থানে সহায়তা করেছিল। তবে এপ্রিলে জোরালো লাভের পর মে মাসে সম্ভাব্য সংশোধন নিয়ে ট্রেডারদের সতর্কতা বাড়ায় বুলিশ গতি কমে আসছে। ETF-এ অর্থপ্রবাহ, শক্তিশালী অন-চেইন ডেটা এবং তুলনামূলক অনুকূল নিয়ন্ত্রক পরিস্থিতির মতো ইতিবাচক ইঙ্গিতও এখন পর্যন্ত কেনার আগ্রহ ফেরাতে পারেনি।
বুধবারের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। নজর থাকবে OPEC-এর প্রতিবেদন, কানাডার বিল্ডিং পারমিট এবং BoE ও Fed কর্মকর্তাদের বক্তব্যের দিকে। বড় কোনো তথ্য প্রকাশ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, যা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঁ ছাড়া প্রধান মুদ্রা ও পণ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সোনা মাসিক সর্বনিম্ন পর্যায় পরীক্ষা করতে পারে, তেলের দরপতন আরও বাড়তে পারে এবং ক্রিপ্টো বাজার সম্ভবত স্থির থাকবে। শেয়ারবাজারে সামান্য উত্থান হতে পারে, আর বন্ডের ইল্ড সাম্প্রতিক বৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি নিয়ে কোনো চমক বা বৃহস্পতিবারের যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় তথ্যের আগে সতর্ক মনোভাব বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!