
শক্তিশালী মার্কিন তথ্য, ফেডের কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত এবং বাজারের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে US Dollar Index (DXY)-এর টানা চার সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে সমর্থন করছে। সেপ্টেম্বরের Durable Goods Orders এবং University of Michigan-এর Consumer Sentiment Index-এর ইতিবাচক ফল ফেডের সুদের হার কমানোর গতি ধীর হওয়ার প্রত্যাশাকে জোরদার করেছে। পাশাপাশি, সপ্তাহান্তে চীনের ঘটনাবলি, জাপানের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক খবর বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে, যা জাপানি ইয়েন (JPY) ও ক্রুড অয়েলের দামে প্রভাব ফেলছে।
ইতিবাচক তথ্যের সমর্থনে US Dollar-এর শক্তি ইউরোজোন, যুক্তরাজ্য ও জাপানের দুর্বল সংকেতগুলোকে ছাপিয়ে গেছে। এতে EURUSD ও GBPUSD-এর দাম কমেছে, আর USDJPY বেড়েছে।
জার্মান Ifo Sentiment Index ইতিবাচক হওয়া সত্ত্বেও, EURUSD টানা চার সপ্তাহ ধরে কমেছে। ECB-র নমনীয় নীতির পূর্বাভাসের পাশাপাশি, মুদ্রাস্ফীতি কমার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট Lagarde-এর মন্তব্যও এ পতন ঠেকাতে পারেনি।
GBPUSD-এর ওপরও চাপ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ঝুঁকিপূর্ণ বাজেট ও মিশ্র অর্থনৈতিক তথ্যের মধ্যে সুদের হার দ্রুত কমানোর বিষয়ে বাজারের জল্পনার জবাব দিচ্ছে Bank of England।
এদিকে, USDJPY সপ্তাহের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী গ্যাপ নিয়ে লেনদেন শুরু করেছে। জাপানের ক্ষমতাসীন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর ব্যাংক অব জাপানের সুদের হার বাড়ানো এবং মজুরি বৃদ্ধিতে সহায়তা করার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, যা ইয়েনের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
অন্যান্য প্রধান মুদ্রার মতো, শক্তিশালী US Dollar-এর বিপরীতে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ থাকায় অস্ট্রেলীয়, নিউজিল্যান্ড ও কানাডীয় ডলারের ওপর বিক্রির চাপ পড়ে—যদিও চীন উল্লেখযোগ্য প্রণোদনা পদক্ষেপ নিয়েছে। সপ্তাহান্তে পিপলস ব্যাংক অব চায়না (PBoC) সরাসরি রিভার্স রেপো কার্যক্রম শুরু করে। উপঅর্থমন্ত্রী Liao Min জানান, 4-8 নভেম্বর ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের অধিবেশন শেষে আরও প্রণোদনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সেপ্টেম্বরে চীনের শিল্প মুনাফা এ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে।
এছাড়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডায় ধীরগতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি ব্যাংক অব কানাডা (BoC) থেকে দ্রুত সুদহার কমানোর প্রত্যাশা AUDUSD এবং NZDUSD-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, আর USDCAD-কে শক্তিশালী করেছে।
ইরানে ইসরায়েলের লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় WTI ক্রুড অয়েল-এর দাম গ্যাপ ডাউনের মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেছে। এ ছাড়া, চীনে জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং OPEC+-এর উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে ক্রুড অয়েলের দামের ওপর আরও চাপ পড়েছে।
অন্যদিকে, সোনা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। শক্তিশালী US Dollar থাকা সত্ত্বেও, এর দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে। বিশ্বে সোনার বৃহত্তম ভোক্তাদের মধ্যে অন্যতম ভারত থেকে উৎসবকালীন চাহিদাও এই মূল্যবৃদ্ধিতে ইন্ধন জোগাচ্ছে।



বিটকয়েন (BTCUSD) এবং ইথেরিয়াম (ETHUSD)-এর দাম ক্রিপ্টো ট্রেডাররা শিল্পখাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আশাবাদী থাকা সত্ত্বেও সপ্তাহজুড়ে কমেছে। এই দরপতনের সঙ্গে Tether-এ FBI-এর তদন্ত এবং এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে US Treasury Department-এর বিবেচনা নিয়ে আলোচনা সম্পর্কিত হতে পারে।
সামনে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোজোন ও অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য মোমেন্টাম ট্রেডারদের নজর কাড়বে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো EU ও যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রান্তিকের GDP-র প্রাথমিক হিসাব, যুক্তরাষ্ট্রের Core PCE Price Index, Nonfarm Payrolls (NFP) এবং অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রাস্ফীতির তথ্য।
ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকা এবং ফেডের কড়া অবস্থানের বিপরীতে অন্যান্য প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নরম অবস্থানের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে মার্কিন ডলার শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন তথ্য-উপাত্তে ফেডের ধীরে সুদের হার কমানোর প্রস্তুতি নিয়ে সংশয় তৈরি না হলে, এতে প্রধান মুদ্রা এবং অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলোর ওপর চাপ পড়তে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!