
বৃহস্পতিবার বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পর শুক্রবারের অস্থিরতা আশাবাদীদের উদ্বেগে ফেলেছে, কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকাররা তাদের hawkish অবস্থান ধরে রেখেছেন। জাপানে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং তাইওয়ানকে ঘিরে নতুন উত্তেজনার মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহও কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক দুর্বল তথ্য এবং PBOC-এর নিষ্ক্রিয়তা দামে একটি তল তৈরি করেছে, যা বুলদের আশাবাদী রেখেছে।
তবে, সাম্প্রতিক দুর্বল মার্কিন ডেটা সত্ত্বেও সুদের হার বাড়ানোর সক্ষমতা নিয়ে বাজারকে আশ্বস্ত করতে ফেডের কর্মকর্তারা শেষবারের মতো চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে মার্কিন ডলারের দরপতনের পক্ষে থাকা ট্রেডাররা পিছু হটছেন। যুক্তরাজ্যের হতাশাজনক খুচরা বিক্রয় ডেটাও GBPUSD-কে চাপে রাখছে। তবে, স্টক ফিউচার শক্তিশালী হওয়ায় এবং আগের দিনের বহু মাসের সর্বনিম্ন স্তর থেকে বন্ডের ইয়েল্ডের উত্থান কমে আসায় সোনার দাম সামান্য বাড়ছে।
গ্রিনব্যাকের বিপরীতে JPY সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে, আর AUDUSD ছিল বিপরীত প্রান্তে। এদিকে, চীনের চাহিদা বাড়ার আশায় ব্রেন্ট তেলের দর তুলনামূলকভাবে শক্ত রয়েছে।
অন্য খবরে, ইতিবাচক একটি সপ্তাহের পর Genesis-এর দেউলিয়া হওয়ার আবেদন ক্রিপ্টো ক্রেতাদের উদ্বিগ্ন করেছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



শুক্রবার ট্রেডাররা স্পষ্ট দিকনির্দেশনা খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। মার্কিন ডলারের দরপতনের পক্ষে থাকা ট্রেডাররা বিরতি নেওয়ায় ডলারের পুনরুদ্ধার শুরু হলেও, বন্ড মার্কেট নিষ্ক্রিয় থাকায় সেই গতি কমে আসছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের আরও সুদের হার বাড়ানোর প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মন্দার আশঙ্কার মধ্যে টানাপোড়েনও বাজারের ওঠানামা সীমিত করতে পারে। উল্লেখ্য, চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহজ মুদ্রানীতির পক্ষে অবস্থান ধরে রাখলেও বেইজিংয়ের আকাশসীমায় উপস্থিতি নিয়ে তাইওয়ানের উদ্বেগ তার বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে, যা ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাকেও পরীক্ষা করছে। তবে বড় কোনো তথ্য বা ঘটনা না থাকায়, ফেডের কর্মকর্তাদের নীরবতার সময়ের মধ্যে আগামী সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যের অপেক্ষায় ট্রেডাররা দিকনির্দেশনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
তথ্য-উপাত্তের কথা বলতে গেলে, যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রয় দেশটির অর্থনীতির জন্য আবারও নেতিবাচক সংকেত দিয়েছে। শ্রমিকদের ধর্মঘট এবং মূল্যস্ফীতির গতি কমে যাওয়ায় অর্থনীতি এমনিতেই চাপে রয়েছে, যা GBPUSD-এর বুলদেরও চাপে ফেলেছে।
অন্যদিকে, দামে সাম্প্রতিক পতন সত্ত্বেও সোনার ক্রেতারাই এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। এর পেছনে রয়েছে মার্কিন ডলারের আরও দুর্বল হওয়ার প্রত্যাশা এবং বাজারের মনোভাবের উন্নতি। তেলের ইতিবাচক পারফরম্যান্স এবং চীনকে ঘিরে আশাবাদের সঙ্গে এই পরিস্থিতি AUD, NZD ও CAD-এর মতো অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলোকেও সহায়তা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দুর্বলতা এবং FTX-এর কারণে তৈরি হওয়া সংকটের অবসানের আশার সঙ্গে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় Genesis-এর নেতিবাচক খবরের টানাপোড়েনে BTCUSD ও ETHUSD কয়েক দিনের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি ওঠানামা করছে।
ক্যালেন্ডারে কানাডার খুচরা বিক্রির তথ্য ছাড়া বড় কোনো তথ্য বা ঘটনা না থাকায়, দিকনির্দেশনা পেতে ট্রেডাররা দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করবেন। তাঁরা সুদের হার আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত খুঁজবেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পক্ষে থাকা সাপ্তাহিক বাজারচলনকে আংশিকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। তবে মন্দার আশঙ্কায় পুরো সপ্তাহজুড়েই শেয়ারবাজারে গতি কম থাকতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!