
বুধবারের শুরুতে ট্রেডিংয়ের গতি স্পষ্ট নয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় রয়েছে। বাজারের অংশগ্রহণকারীরা ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (FOMC) মুদ্রানীতি সভার ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন। তবে, সতর্ক মনোভাব মার্কিন ডলার ও ইল্ডকে শক্ত অবস্থানে রাখছে, আর প্রধান মুদ্রা, কমোডিটি ও অ্যান্টিপোডিয়ানসহ অন্যান্য ট্রেডিংয়ের সুযোগের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
মার্কিন ডলারের দর শক্ত থাকলেও, ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ECB) কর্মকর্তাদের কড়া অবস্থানের ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য এবং জার্মানির ইতিবাচক তথ্যের মধ্যে EURUSD সংশোধনমূলকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে, যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে কম আসায় GBPUSD টানা পঞ্চম দিনের মতো চাপের মুখে রয়েছে।
এদিকে, 17 বছরের মধ্যে ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) প্রথমবার সুদের হার বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও হার বাড়ানোর নীতিনির্ধারকদের প্রস্তুতি সত্ত্বেও USDJPY 2023 সালের নভেম্বরের পর থেকে নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। পাশাপাশি, সোনার দর সপ্তাহের ট্রেডিং রেঞ্জের মধ্যে ওঠানামা করছে, আর ক্রুড অয়েলের দর আগের দিনের চিহ্নিত 4.5 মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে।
অন্যদিকে, BTCUSD দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ETHUSD ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের পর সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে। আগের বুলিশ অবস্থান নিশ্চিত করার মতো আরও ইঙ্গিত খুঁজছেন ট্রেডাররা।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান শক্তিশালী হয়েছে। মঙ্গলবারের আশাব্যঞ্জক মার্কিন আবাসন বাজারের তথ্যও এর সঙ্গে যোগ হয়েছে। ফলে পাঁচ দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে US Dollar Index (DXY) সামান্য বেড়েছে এবং সংবাদ লেখার সময় মাসিক সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের এই সূচকটি ইল্ডের গতিপথ অনুসরণ করছে, কারণ ট্রেডাররা জুনে US Federal Reserve (Fed)-এর সুদের হার কমানোর সম্ভাবনার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন।
ফেড নিয়ে উদ্বেগ ও মার্কিন তথ্যের পাশাপাশি চীন, রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ভূরাজনৈতিক উদ্বেগও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মার্কিন ডলারের চাহিদাকে সমর্থন করছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে US অর্থনীতির ধীরগতির হলেও মন্দায় না পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ এবং প্রধান অর্থনীতিগুলোর পুনরুদ্ধার নিয়ে সংশয়—বিশেষ করে উচ্চ সুদের হারের কারণে। এসবই US ডলারের শক্তি বাড়াচ্ছে।
তবুও, ECB-এর সুদের হার কমানো পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে মন্তব্য এবং জার্মানির ইতিবাচক ZEW পরিসংখ্যান, নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যে সাম্প্রতিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিলে ইউরো বিক্রেতাদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রত্যাশার চেয়ে কম যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং দেশটির অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা একসঙ্গে ব্রিটিশ পাউন্ডের (GBP) ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি, সুদের হার কমানোর পক্ষে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (BoE) অবস্থানের বিরোধিতা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, চীনের আবাসন বাজারের পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক দুরবস্থার চাপ NZDUSD ও AUDUSD-এর ওপরও পড়ছে। এদিকে, ট্রেডাররা 17 বছরের মধ্যে প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি আগেই বাজারদরে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছেন বলে মনে হওয়ায় USDJPY এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে পারছে না।
সাম্প্রতিক সংশোধনমূলক উত্থান সত্ত্বেও BTCUSD ও ETHUSD সাম্প্রতিক লাভের কিছুটা খুইয়েছে। স্পট ETF অনুমোদন ঘিরে আশাবাদে যে আগের ঊর্ধ্বগতি তৈরি হয়েছিল, তা ধরে রাখতে আরও ইঙ্গিত খুঁজছেন ক্রিপ্টো ট্রেডাররা।
ECB প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তব্য এবং ইউরোজোনের কনজিউমার কনফিডেন্সের তথ্যও মোমেন্টাম ট্রেডারদের আগ্রহ জাগাতে পারে। তবে মূল নজর থাকবে US Fed-এর মুদ্রানীতি-সংক্রান্ত ঘোষণার দিকে। সুদের হারের সিদ্ধান্তে তেমন চমক থাকার সম্ভাবনা নেই, কারণ হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পেতে ডট প্লট এবং Fed চেয়ার জেরোম পাওয়েলের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
নীতিনির্ধারকদের সুদের হারসংক্রান্ত প্রত্যাশায় যদি 2024 সালে চারবারের বদলে মাত্র 3 বার সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত থাকে, তাহলে মার্কিন ডলারের সাম্প্রতিক উত্থান আরও বাড়তে পারে। তবে মার্কিন ডলারের ক্রেতাদের সমর্থন দিতে ফেডের পাওয়েলকে কড়া নীতির অবস্থান বজায় রাখতে হবে এবং সুদের হার কমানোর প্রয়োজন আছে—এমন ইঙ্গিত দেওয়া যাবে না।
অন্যদিকে, বাজারের কঠোর নীতির প্রত্যাশা এবং ফেড চেয়ার পাওয়েলের বক্তব্যের নরম সুর এবং/অথবা ডট প্লটের মধ্যে কোনো অমিল থাকলে, তা মার্কিন ডলারকে আগের সর্বনিম্ন স্তরের দিকে ফিরিয়ে নিতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!